সড়ক দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে

দিন বাদেই পবিত্র ঈদুল ফিতরজীবন-জীবিকার তাগিদে মানুষ যে যেখানেই থাকুক না কেন, প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে ব্যাকুল সবাইমা-বাবা, ভাই-বোন, পরিবার, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে ফিরে চলা জন্মস্থানেসাধারণত ঈদের সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই বাড়ি ফেরার উৎসব শুরু হয়যানবাহন-সংকটে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয় যাত্রীদেরলঞ্চ, স্টিমার, বাস, ট্রেন ছাড়াও যে যার মতো করে বাড়ি ফেরার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে ঘরমুখো মানুষজনআর ঘরে ফেরা মানুষের চাপ পড়ে সড়ক-মহাসড়কেতৈরি হয় দীর্ঘ যানজটআর বাড়ি ফেরার এই প্রতিযোগিতায় প্রায়ই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

 

অতিরিক্ত যাত্রী ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ফলে ঈদের সময়গুলোতে প্রায়ই ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনাদিন দিন সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েই চলছে

 

পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলগুলোতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনার খবরআর এই দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে জনসচেতনতার অভাবমহাসড়কের বাঁকগুলোর অধিকাংশ জায়গায় সতর্কীকরণ নোটিশ নেইআবার অধিকাংশ গাড়িচালকই অশিক্ষিত ও প্রশিক্ষণহীন হওয়ায় এসব নোটিশ সম্পর্কে জানেন নাচালক কিংবা পথচারী কেউ এই সাইনগুলোর সঙ্গে ভালোভাবে পরিচিত ননদেশে বেপরোয়া গতির যানবাহনের গতিরোধ করার জন্য যে অদ্ভুত আকৃতির কিছু গতিরোধক নির্মাণ করা হয়েছে, তা-ও অনেক ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়এ ধরনের অসংখ্য গতিরোধক দেশের রাস্তাগুলোতে যত্রতত্র নির্মাণ করা হয়েছে এবং অধিকাংশের আগে কোনো ধরনের সতর্কতা নির্দেশনা নেইতাই বিশেষ করে, রাতে চলা যানবাহনের জন্য এটি অন্যতম দুশ্চিন্তার কারণ

গাড়ির গতি যখন ৬০-৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়, তখন হঠাৎ একটি আইল্যান্ড সামনে পড়লতখন গাড়ির চালক না পারে গাড়ি ব্রেক ধরতে, আর না পারে স্বাভাবিক গতি রাখতেপ্রতিদিনই দুর্ঘটনায় আহত এবং নিহত হচ্ছে আমাদের কোনো না কোনো প্রিয়জনআমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার ক্ষত কোনোভাবেই সারিয়ে তোলা যাচ্ছে নাবিশ্ব প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে যানবাহনপ্রতি সড়ক দুর্ঘটনার হার সর্বাধিকপরিসংখ্যান মতে, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ১২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশে ১০ হাজার যানবাহনের দুর্ঘটনায় নিহতের হার প্রায় ১৭০ জন এবং এই হার বিশ্বে সর্বোচ্চঅপরদিকে গাড়ি উৎপাদনকারী প্রধান দেশ জাপানে ১০ হাজার গাড়িপ্রতি মৃত্যু মাত্র ১ দশমিক ৯ জনবাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়েজনগণের যাতায়াতকে নিরাপদ ও ঝুঁকিহীন করতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায় থেকে কোনো বিশেষ পদক্ষেপ লক্ষণীয় নয়বাংলাদেশে অতিসাম্প্রতিক কালে সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র পর্যালোচনা করলে এক ভয়াবহ চিত্র পরিলক্ষিত হয়রোড সেফটি সেল অব বাংলাদেশকর্তৃক প্রকাশিত রিপোর্টে জানা যায়, দুর্ঘটনায় পতিত ৭০ ভাগ মানুষই ১৬-৫০ বছর বয়সীদুর্ঘটনাকবলিত ছয়জনের মধ্যে একজন মৃত্যুবরণ করেন এবং ১৯ ভাগ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হনইউনিসেফের এক রিপোর্টে দেখা যায়, দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে প্রতিবছর ৩০ হাজার মানুষের মধ্যে দুর্ঘটনায় পতিত ৩ হাজার ৪০০ শিশু মৃত্যুবরণ করেগবেষণামতে, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩৪ ভাগ পরিবারের প্রধান ব্যক্তিই নিহত হনদুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে দেখা যায়, চালকের অদক্ষতা এবং ফিটনেসহীন যানবাহনের অবাধ চলাচল, বহনক্ষমতার অতিরিক্ত পণ্য কিংবা যাত্রীবহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, অপরিকল্পিত ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ এবং অনাধুনিক ট্রাফিক-ব্যবস্থা সড়ক দুর্ঘটনার মূল হিসেবে চিহ্নিতএর চেয়ে বেশি প্রয়োজন জনসচেতনতাসড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে সচেতনতাই মুখ্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারেদক্ষ চালক চিহ্নিতকরণ এবং আধুনিক সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য মিডিয়াও একটি বিশাল ভূমিকা রাখতে পারেতবে সবার আগে দরকার সড়কগুলো প্রশস্ত করা ও বাঁক কমানো

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *