রসের কারিগর প্রদীপ কুমার

রসের কারিগর প্রদীপ কুমার দেব। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে নিরলস সাধনার মাধ্যমে সুস্বাদু মিষ্টি তৈরির কাজ করছেন তিনি। এরই মধ্যে পেশাগতভাবে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন এই মিষ্টির কারিগর।

স্বাধীনতার পর পর পুরান ঢাকায় মিষ্টির দোকানে কাজ শুরু করেন প্রদীপ। সেখানে কিছুদিন কাজ করার পর চাকরি নেন দেশের অন্যতম মিষ্টি তৈরির প্রতিষ্ঠান জল খাবারে। সেই থেকে সুদীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে মিষ্টি তৈরির সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন তিনি। জাদুকরি হাতে তৈরি মিষ্টি দেশ-বিদেশে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছে। এখনো নিজের এলাকা তো বটেই দূর-দূরান্ত থেকে ডাক পড়ে প্রদীপ কুমারের। বড়-সড় বিয়ে, জন্মদিন, মেজবানি বা অন্য যেকোনো বড় অনুষ্ঠান হলেই প্রদীপ কুমারের ডাক পড়বে। কেননা, কেবল তিনিই জানেন কীভাবে মিষ্টি তৈরি করলে ভোজনরসিকেরা খুশি হবেন। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে প্রদীপ কুমারের সংসার।

গত তিন যুগ ধরে প্রদীপ কুমার যেসব মিষ্টি তৈরি করছেন, তার মধ্যে রয়েছে-রসগোল্লা, রাজভোগ, চমচম, কালোজাম, ক্ষীরভোগ, লালমোহন, ক্ষীরচমচম, ছানার আমির্তি, স্পঞ্জ রসগোল্লা, রসমালাই, মালাইচপ, সন্দেশ, লাড্ডু, বালুসা, সাওয়ার লাড্ডু, বেবি সুইট, মনাক্ষা, কাঁচাগোল্লা, অবাক সন্দেশ, বরফী সন্দেশ, রাজভোগ ইত্যাদি। এমন সব বাহারি মিষ্টি তৈরির কারিগর প্রদীপ কুমার দেব জানান, ‘মানুষ মনে করে খুশির সংবাদের সাথে মিষ্টির একটা বিরাট সম্পর্ক রয়েছে। আর তাই মিষ্টির চাহিদা কখনোই কমে না। কারণ, মানুষের বা সমাজের মধ্যে যত হতাশা, দুঃখ, কষ্ট থাক না কেন খুশির খবর একসময় আসেই। তা ছাড়া, মানুষের বিয়ে-শাদি, পৌষ-পার্বণ এমনকি পরীক্ষায় পাসের পরও এখনো মিষ্টি কেনা বা খাওয়ানোর ধুম পড়ে যায়। যুগের সাথে পরিবর্তিত হয়েছে মিষ্টির ব্যবহার ও কদরের। যেকোনো শুভ কাজে এখনো মিষ্টির কদর রয়েছে বলে জানান মিষ্টি তৈরির জাদুকর প্রদীপ কুমার।

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি হরমোহন দত্ত, সমেশ উদ্দীন, হাজি রাকিব উদ্দিন জানান, প্রদীপের তৈরি মিষ্টি এখনো তাদের অনেক প্রিয়। পাড়া, মহল্লা বা আশপাশের যেকোনো মিষ্টি তৈরির প্রতিযোগিতা বা উৎসব হলে এখনো বিচারক হিসেবে প্রথম পছন্দ প্রদীপ কুমারকে। কারণ, তিনিই সবার চেয়ে ভালো জানেন, কোন প্রক্রিয়ায় কোন মিষ্টি তৈরি করলে সেটা সুস্বাদু হবে। আর এবার সেরা মিষ্টি কোনটি সেটা জানাতে প্রধান বিচারক হিসেবে প্রদীপ কুমারের ডাক পড়েছে সুদূর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক থেকে। আগামী আগস্ট মাসে নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকায় অবস্থিত সুজান অ্যান্থনি স্কুলে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বেঙ্গলি সুইট ফেস্টিভাল।’ নিউ ইয়র্কে যারা মিষ্টির ব্যবসা করেন, তারা প্রায় সবাই এই ফেস্টিভালে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের মতো নিউ ইয়র্কেও যেকোনো উৎসবে মিষ্টি কেনা এবং খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। তা ছাড়া মিষ্টিপ্রিয় বাঙালিরা প্রায় প্রতিদিনই তাদের খাদ্যতালিকায় রাখেন মিষ্টি। আর সে জন্যই এই আয়োজন প্রথমবারের মতো হলেও এটা আগামী দিনে আরও অনেক জনপ্রিয় হবে বলে আয়োজন প্রতিষ্ঠান বেঙ্গলি গ্রুপের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বেঙ্গলি গ্রুপের কর্মকর্তাদের মতে, এই আয়োজন, বাংলাদেশের মুখও যেমন উজ্জ্বল করবে, ঠিক তেমনি নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী বাঙালিরাও পাবেন আনন্দ। আর অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি লাভবান হবে পারবেন এখানকার মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। আর প্রদীপ কুমার ফেস্টিভালের প্রধান বিচারক হওয়ায় প্রবাসে বাংলাদেশের মুখ আরও উজ্জ্বল হবে বলেই সবার ধারণা।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.