জয় বনাম তারেক : রাজনীতির নতুন উত্তাপ | সময় বিচিত্রা
জয় বনাম তারেক : রাজনীতির নতুন উত্তাপ
মোহাম্মদ সাইফুল আলম চৌধুরী
17_1

বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠ নিরুত্তাপ থাকে কদাচিৎসংসদে কাদা ছোড়াছুড়ি, দুই দলের নেতাদের মারমুখী বাক্যবাণ, রাজপথে জামায়াতের তাণ্ডব ও সহিংসতা, মাঝেমধ্যে হেফাজতের ভেল্কিবাজি, পুষ্টিহীন বিড়ালের মতো এরশাদের মহাজোট ছাড়ার হুমকি, রাজপথে হরতাল-অবরোধ-ভাঙচুর ইত্যাকার নানা ঘটনায় রাজনীতির মাঠ কমবেশি উত্তপ্ত থাকেএসব উত্তাপ এ দেশের মানুষ দেখতে দেখতে একধরনের অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, ক্লান্তও হয়ে গেছেকিন্তু সম্প্রতি একেবারে নতুন একটি বিষয় নিয়ে দেশের রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছেসজীব ওয়াজেদ জয় ও তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছেবর্তমান এবং সাবেক এ দুই প্রধানমন্ত্রীপুত্রকে নিয়ে হঠাৎ চাঙা হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠএ দুজনের বক্তব্য, অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের নেতাদের মধ্যে বাক্যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছেএকদিকে জয়ের বক্তব্য নিয়ে সমালোচনায় মুখর বিরোধী দল, অন্যদিকে তারেকের বিরুদ্ধে বিদ্যমান অভিযোগের সূত্র ধরে তার আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সরকারি দলের নেতারা ব্যঙ্গ করছেনআবার কেউ কেউ উত্তরাধিকারের এই রাজনীতিকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না

 

জাতীয় নির্বাচনে সরাসরি অংশ না নিলেও দেশের রাজনীতিতে তারেক রহমান নতুন নয়সরকারের আড়ালে ছায়া সরকার প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র হাওয়া ভবনতৈরি আর দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে তিনি একধরনের নির্বাসনেই চলে গিয়েছিলেনবিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ২০০৮ সালে সেপ্টেম্বর মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যানতখন থেকে তিনি লন্ডনেই অবস্থান করছেন২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির কাউন্সিলে তাকে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়সম্প্রতি লন্ডন থেকে ফিরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, তারেক রহমান চিকিৎসকদের সম্মতি পেলে শীঘ্রই দেশে ফিরবেনসে হিসেবে বলা যায়, বিরোধী দল তারেক রহমানের দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে

 

অন্যদিকে আইটি বিশেষজ্ঞ, বঙ্গবন্ধুর নাতি সজীব ওয়াজেদ জয়ের রাজনীতিতে অভিষেক ঘটল, বাবার বাড়ি পীরগঞ্জে গিয়ে নৌকা মার্কায় ভোটও চেয়েছেনইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেছেন, পরিস্থিতি দেখে প্রতীয়মান হচ্ছে, দুই পুত্র এসেছেনএকজন দ্বিতীয়বার, অপরজন প্রথমবারের মতোস্বাভাবিকভাবেই যখন নতুন প্রজন্ম তার পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিয়ে সামনে অগ্রসর হয়, তাকে অভ্যর্থনা জানানো উচিততবে বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের খুশি হওয়ার সুযোগ কতটুকু, সেটা ইতিহাসই বলবে

 

তারেকের কর্মপরিকল্পনা

সম্প্রতি নির্বাচনের আগে লন্ডনে নিজের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসেখানে বাংলাদেশকে আগামী দিনে কেমন দেখতে চান, সে লক্ষ্যে উন্নয়নের সাত দফা রূপরেখা তুলে ধরেন তিনিশিক্ষাব্যবস্থা, কৃষিখাত, শিল্পায়ন, পরিবেশ ও পর্যটনশিল্প, রাজধানীর যানজট নিরসন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং পানি ও বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা এসব পরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম

 

জয়ের অভিষেক

২৩ জুলাই বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ইফতার পার্টিতে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়জয় সেখানে বলেন, তার কাছে তথ্য আছে আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ জিতবেএ বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি দেখতে পেয়েছে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার ষড়যন্ত্রএ নিয়ে দুই পক্ষের বাগ্বিতণ্ডা শেষ হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পরিবারের সবাইকে নিয়ে বুধবার রংপুর যাচ্ছেন২০১০ সালে জয়কে রংপুর আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ দেওয়া হয়গত ৩১ জুলাই রংপুরের পীরগঞ্জ-৬ আসনে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন জয়১ আগস্ট একটি টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার রাজনীতিতে আসার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন

 

দুই দলে চাঞ্চল্যের ট্রাম্পকার্ড

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ৫ সিটি করপোরেশন নির্বাচন দেশের রাজনীতির দৃশ্যপট অনেকাংশে পাল্টে দিয়েছে৫ সিটিতেই প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগকে ক্লিন হোয়াইট ওয়াশ করে ধুঁকতে থাকা বিএনপি চাঙা হয়ে উঠেছেক্ষমতায় ফিরে আসছে, এমন আত্মবিশ্বাস এখন দেখা যাচ্ছে দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে, এ জন্য তারা উজ্জীবিতও হয়ে উঠেছেনএ অবস্থায় তারেকের ফিরে আসার খবরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে সে চাঞ্চল্যের মাত্রা আরও বাড়বে, এমনটাই স্বাভাবিক

 

অন্যদিকে ৫ সিটি নির্বাচনে পরাজয়ের পর গতানুগতিক ধারায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পরস্পরের ওপর দোষারোপ করা আর হতাশায় মুষড়ে পড়া ছাড়া কিছুই করতে পারেননিজাতীয় নির্বাচনের আগে এমন ভরাডুবির পর নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙা করার জন্য টনিকের মতো কাজ করে এমন কিছু দরকার দলটিরসজীব ওয়াজেদ জয় তেমনভাবে কাজ করছেন কি না, সেটি এখনো বোঝা না গেলেও দলের নেতা-কর্মীদের তিনি ইতিমধ্যেই আগামী নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশার বাণী শুনিয়েছেনএদিক থেকে বলা যায়, সজীব ওয়াজেদ জয়কে রাজনীতিতে আনা আওয়ামী লীগের নতুন চমক

 

দুই দলের কাছে জয় ও তারেক এখন নতুন একটি ট্রাম্পকার্ডইতিমধ্যে কার চেয়ে কে ভালো, কার চেয়ে কে বেশি রাজনীতি বোঝেন, এমন বিতর্কও শুরু হয়ে গেছেআওয়ামী লীগের নেতাদের কেউ কেউ বলেছেন, জয় উচ্চশিক্ষিত ও আইটি বিশেষজ্ঞতারেকের মতো তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেইঅন্যদিকে বিএনপির নেতাদের কেউ কেউ বলেছেন, তারেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং ঈর্ষাপরায়ণতার বহিঃপ্রকাশতারেক তৃণমূল রাজনীতিতে জয়ের চেয়ে অনেক অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয়

 

নতুন নেতৃত্ব নাকি পুরোনো বোতলে নতুন মদ

দুটি শিবিরে বিভক্ত হানাহানি আর মারামারি রাজনীতিতে এ দেশের মানুষ অনেক দিন ধরেই ভীতশ্রদ্ধএ থেকে পরিত্রাণের জন্য দুই দলের বাঘা বাঘা পুরোনো নেতারা যে কিছুই করতে পারছেন না, সেটি পরিষ্কারএ অবস্থায় নতুন নেতৃত্বকে সাধুবাদ জানাতে পারে দেশের মানুষবারাক ওবামার মতো এ দেশের মানুষও বলার অপেক্ষায় আছে, ‘পরিবর্তন আমাদের প্রয়োজনকিন্তু আসলেই কি নতুন নেতৃত্ব আসছে? নাকি গতানুগতিক ধারায় উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ঝাণ্ডার ধারক হচ্ছেন তারা?

 

৫ বছর নিষ্ক্রিয় থাকার পর তারেক রহমান যে কর্মপরিকল্পনা ও রোডম্যাপ দিয়েছেন, তা যেকোনো দেশের উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক তা সন্দেহ নেইকিন্তু তার বিরুদ্ধে বিদ্যমান যে অভিযোগ, সেগুলো সম্পর্কে কোনো গ্রহণযোগ্য জবাব এখনো তিনি দেননিবিএনপির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগকে বারবার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে প্রচার হয়েছেকিন্তু দেশের মানুষের কাছে এসব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে খণ্ডন করার মতো কোনো তথ্য-প্রমাণ এখনো দলটি তুলে ধরতে পারেনিডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেছেন, ‘আজ তারেক রহমান যখন নতুন করে রাজনীতিতে আসার পরিকল্পনা করছেন, অতীতে তিনি যে অপকর্ম করেছেন, তা নিয়ে কোনো আক্ষেপ বা পরিতাপ তো নয়ই, ভবিষ্যতেও যে তিনি এ ধরনের অপকর্মে ফের লিপ্ত হবেন না, সে ব্যাপারে কোনো অঙ্গীকার করেননি তিনিতারেক রহমানের স্তুতিতে রচিত অর্কেস্ট্রার বেসুরো সুর শোনা যাচ্ছে এখন

 

অন্যদিকে সজীব ওয়াজেদ জয় রাজনীতিতে নেমেই নিজ কথনের বুমেরাং এফেক্টের শিকার হয়েছেনডিজিটাল বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্য তিনি পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করেছেন, এমন দাবি বর্তমান সরকারপ্রধান ও তার দলের পক্ষ থেকে বারবারই করা হয়েছেকিন্তু রাজনীতিতে পা দিয়েই নিজ দলের হারানো মনোবল ফেরানোর জন্য তার প্রথম বক্তব্য এবং দাবি মাহফুজ আনামের ভাষায়, ‘অনভিজ্ঞ, অযৌক্তিক, অবিবেচনাপ্রসূত ও বিপর্যয় ঘটানোর মতো মন্তব্যএ মন্তব্য সামাল দিতে গিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীকে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী ঠিকভাবে ব্যাখ্যা দেওয়ার কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছে আওয়ামী লীগকিন্তু ৫ সিটিতে চরম ভরাডুবির পর নিজ দলের বা নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জরিপের ওপর ভিত্তি করে দলের মনোভাব চাঙা করার ধারণা রাজনৈতিকভাবে কতটা প্রজ্ঞাবহ তা আগামী নির্বাচনেই বোঝা যাবেআবার জয়ের বক্তব্যের সূত্র ধরে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রচারণার জন্য তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিশেষজ্ঞকে তার উপদেষ্টা হিসেবে নিয়ে আসবেনবিদেশিদের উপদেশ কিংবা পরামর্শে যে এ দেশের মানুষের মন জয় করা যায় না, তা বঙ্গবন্ধু প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে জেলে বসে লিখেছিলেন, যা তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে প্রকাশিত হয়েছে

 

এ দেশের পত্রপত্রিকায় তারেকের ফিরে আসা আর জয়ের আগমন নিয়ে মাতামাতি হলেও অনেকের কাছে এটি নতুন কিছু নয়অনেকেই মনে করেন, এমনটাই হওয়ার কথা ছিল; বরং যা অবশ্যম্ভাবী তা দ্রুত ঘটে যাওয়াই ভালোকারণ, এ দেশের রাজনীতিতে একটি বিষয় খুব স্বাভাবিক, সেটি হলো যদি এমপি হন, তাহলে তার অবর্তমানে তার ছেলে কিংবা মেয়ে তার স্থলাভিষিক্ত হবেনউত্তরাধিকার আর পরিবারতন্ত্রের এই রাজনীতি এ দেশে একটি স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছেকোনো দিন রাজনীতি না করেও শুধু পারিবারিক সূত্রে এখানে এমপি হওয়াটা খুব স্বাভাবিক, অবলীলায় চলে আসেন রাজনীতিতেভারতে ইন্দিরা দৌহিত্র রাহুল গান্ধীকে যেমন কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে কিংবা তৃণমূল পর্যায় থেকে রাজনীতির যাত্রা শুরু করতে হয়েছে, পাকিস্তানে বেনজির ভুট্টোকে যেমন পিতার হাত ধরে মাঠপর্যায় থেকে রাজনীতির অ-আ-ক-খ শিখতে হয়েছে; তেমনটা আমাদের দেশে করতে হয় না

 

এ দেশের ৪০ শতাংশ মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচেবয়সের দিক থেকে জয় ও তারেক তাদের প্রতিনিধিও বটেএদের মধ্যে কিছু অংশ ছাত্রলীগ-ছাত্রদল, যুবলীগ-যুবদল হিসেবে জয়-তারেককে বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নেবেকিন্তু তরুণ সমাজের ব্যাপক অংশ আগামী দিনে গণতন্ত্রের চর্চা চায়, চায় মেধা ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতে সুস্থ ধারার রাজনৈতিক চর্চা এবং তার বিকাশতাই তরুণ সমাজের ব্যাপক অংশের সমর্থন পেতে হলে তারেক-জয়কে পরিবারতন্ত্রের চেয়ে মেধা ও গণতান্ত্রিক মানসিকতার পরিচয় দিতে হবেনা হলে গ্লাডিয়েটরসিনেমায় রোম সাম্রাজ্যে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত তরুণ রাজার ভাগ্য বরণ করতে হতে পারেসেখানে চরম জনপ্রিয় জেনারেলকে আটক করে, তার পিঠে গোপনে ছুরি চালিয়ে পরিবারতন্ত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত সিংহাসন রক্ষা করতে পারেনি তরুণ রাজা

 

উত্তরাধিকারসূত্রে রাজনীতিতে আসার চেয়ে রক্ত থেকে মেধার প্রত্যাবর্তন হলে তা দেশের জন্য অনেক মঙ্গলজনকবঙ্গবন্ধু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জীবনদর্শন ও রাজনীতি থেকে সহজেই অনুমেয় যে, রাজনীতি একটি চর্চা ও সাধনার বিষয়এ সাধনা তারা জীবনভর করেছেনতাই আজও তারা মানুষের হৃদয়ে আছেনযে কেউ বলতে পারে, কাঁঠালগাছে কাঁঠালই ধরবে কিংবা আমগাছে আম, কিন্তু কখনো কি কেউ দেখেছে মেধা আর প্রজ্ঞা ছাড়া ডাক্তারের ছেলে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ারের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে? এ কথা অনস্বীকার্য যে, এ দেশের রাজনীতিতে বিজয়ের সিংহভাগই এসেছে তরুণদের হাত ধরেকিন্তু সে তরুণদের কেউই উত্তরাধিকারসূত্রে গদিতে বসেননিতারা রাজপথে কাঠখড় পুড়িয়ে তবেই অধিকার ছিনিয়ে এনেছেন, বিজয়মাল্য পরিয়েছেন দেশের মানুষের গলায়

 

কেউ পছন্দ করুক বা না করুক, একটি বিষয় পরিষ্কার যে, আগামী নির্বাচনে তারেক ও জয় প্রধান ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেনপ্রকারান্তরে তারাই দেশের শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবেনফলে নতুনের হাতে দল আর দেশের ভবিষ্যতের ভার দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ কি নিশ্চিত হতে পারবেন? নাকি অনন্যোপায় হয়ে গতানুগতিক ধারায় তাদের ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচন করতে হবেদীর্ঘ দিনের মারামারি-হানাহানির রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য তারেক কি কোনো রোডম্যাপ/কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করবেন কিংবা জয় কি চালাবেন কোনো জরিপ? দুজন কি আগামী দিনে তাদের মায়ের মতো পরস্পরের সঙ্গে কথোপকথন নিষিদ্ধের রাজনীতি করবেন? পরিবারতন্ত্রের তকমা কাটিয়ে উঠে তারা যদি রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার চেষ্টা করেন, তবেই সবচেয়ে লাভবান হবে এ দেশ ও দেশের মানুষ


আপনাদের মতামত দিন:


সকল খবর
চলমান প্রচ্ছদ