কিছু না থেকে অনেক কিছু | সময় বিচিত্রা
কিছু না থেকে অনেক কিছু
আনোয়ার সাদী
17_27

আমি এমন কোনো সফল মানুষ নই যে আমার জীবন নিয়ে কিছু বলতে পারিতার পরও আজকের এই মহতী অনুষ্ঠানে আমাকে ডাকায় আপনাদের ধন্যবাদ, মাননীয় সভাপতি

লোকটার বয়স এখনো পঞ্চাশ হয়নিঅথচ প্রিন্সিপাল স্যার তাকে নিয়ে এসেছেন বক্তৃতা দিতেএই বিষয়টি কলেজের দেড়শো শিক্ষার্থীর কাছে এক বিস্ময়এমন নানা ধরনের বিস্ময় তারা নিয়মিত পায় নতুন প্রিন্সিপাল কাজে যোগ দেওয়ার পরমোহনপুর আদর্শ কলেজের নতুন প্রিন্সিপালের নাম এম রহমানমুরাদ রহমানের সংক্ষিপ্ত রূপভিজিটিং কার্ডে অবশ্য নামের শেষে এমএ লেখা আছেএম রহমান এমএ

এম রহমানের আগে এই কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন তার দাদা মাইদুল রহমানতিনি পরিচিত ছিলেন এম রহমান নামেআশপাশের দশগ্রামের সবাই তাকে এম রহমান স্যার নামে জানততিনি মারা গেছেন তিন বছর আগেমারা যান প্রিন্সিপালের চেয়ারে বসেইসবাই ভেবেছিল, অনেক কাজ আছে তাই প্রিন্সিপাল স্যার চেয়ারে বসে আছেনশেষে সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত নামতেই এগিয়ে যায় দপ্তরি হরিপদতার তখন বাড়ি যাওয়ার তাগাদাদেরি করে ঘরে ফিরলে বউ অনেক জ্বালাতন করেভাত তো গরম করেই না, কড়কড়া ভাতও কপালে জুটে নাভাতে পানি দিয়ে রাখেকাজেই সন্ধ্যা হলে তার ঘরে ফেরা পাখিদের নীড়ে ফেরার মতোই দরকারি

হরিপদ ভয়ে ভয়ে এগিয়ে যায়দেখে চেয়ারে বসে আছে এম রহমান স্যারমুখটা হা করে খোলাতা দিয়ে বাতাস নেওয়ার কোনো শব্দ নেইঅথচ দিনভর শ্বাস টানার একটা শোঁ শোঁ শব্দ পাওয়া যেত তার কাছে যেতেইহা করা মুখের সামনে উড়ছে একটা মাছিবেশ বড় দেখতে সেটাচোখগুলো সবুজএমন মাছি জীবনে খুব একটা দেখেনি হরিপদসে কাছে যায় হাতপাখা দিয়ে মাছি সরায়বলে, হিস মাছি, হিস

তাতে মাছি সরেএকটা গুনগুন শব্দ হয়তাতে অবশ্য শ্বাসের শব্দ পাওয়া যায় না

স্যার, সইন্ধ্যা হইছে

এম রহমান কোনো শব্দ করেন না

স্যার, আপনে কিছু খাইবেন?

এম রহমান কোনো শব্দ করেন না

হিস মাছি, হিসমাছি সরাতে গিয়ে আরও কাছে যায় হরিপদতখনই সন্দেহ হয় তারনাকের কাছে হাত নিয়ে দেখে শ্বাস নাইনা, লোকটা তখন আর নাইলোকটার ভেতরের বিদ্বান মানুষটা আর নাইএকটা দেহ পড়ে থাকল চেয়ারেলোকটাকে মাটির নিচে ধর্মমতে রেখে এলেও গ্রামের লোকেরা একে অন্যের সঙ্গে সুলায়মান নবীর গল্প বলা শুরু করেমৃত্যুর পরও তিনি লাঠিতে ভর করে দাঁড়িয়ে ছিলেন হাজার বছরলোকজন বলল, তখন তিনি তদারকি করছিলেন মসজিদ নির্মাণেরজিন ও মানুষ মিলে বানাচ্ছিল তাশেষে ঘুণ পোকায় খেয়ে নেয় লাঠিধপাস করে পড়ে যান নবীলোকজন বলল, কী চমৎকার মৃত্যু তারএকদম নবীর মতন মৃত্যুআহা রে, লোকটা সারা জীবন শেষ করল মানুষকে বিদ্বান বানাতেএর কী সুন্দর প্রতিদান পৃথিবী থেকেই পাওয়া শুরু হলো তারসবাই এম রহমানের প্রতি সম্মান জানিয়ে তার নাতি মুরাদ রহমানকে কলেজের প্রিন্সিপাল বানিয়ে দিলদাদার প্রতি সম্মান জানিয়ে মুরাদ রহমান নিজের নাম ছোট করে বানাল এম রহমানকাজে যোগ দিয়ে বলল, ব্রিটিশ রাজত্বে রাজা মরে নামানে রাজার সিংহাসনে বসে আছেন, এমন এক ব্যক্তি মারা গেলে আরেক ব্যক্তি রাজা হনআমাদের আদর্শ কলেজেও এম রহমান স্যার মরেন নাইএম রহমান সিনিয়র চলে গেছেন এই পৃথিবী থেকেকিন্তু আমি নিজের নাম মুরাদ রহমান এমএ ছোট করে রাখলাম এম রহমান

এটা নাকি বিদেশি নিয়মঅহরহ লোকের নাম হয় সিনিয়র-জুনিয়র দিয়েবিদেশি আরও নানা সিস্টেম চালু করলেন নতুন এম রহমানতাতে গত বছর পরীক্ষার রেজাল্ট হয়েছে ভালোএকজন বোর্ডে মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছেতাকে সবার সামনে এক পাল্লায় বসিয়ে আরেক পাল্লায় বই তুলে উপহার দিয়েছেন এম রহমান স্যারছেলেটার ওজন ছিল ৫০ কেজিকলেজ লাইব্রেরির অনেক বই সেদিন দখলে নেয় ছেলেটি

এম রহমান স্যারের আরেক খেয়াল মানুষ দাওয়াত দিয়ে আনাতারা এসে জানায় সাফল্যমানে নিজের জীবনের নানা গল্প বলেছাত্ররা তাতে বেশ মজা পায়অনেকটা ছোটবেলার দাদা-নানির কাছে কিচ্ছা শোনার মতনএই তো গত মাসে এলেন এক ব্যবসায়ী, দেখতে যেন মাদ্রাসার ইমামবললেন, ঘুষ না দিলে কাজ হয় নাতারপর ঘুষের নানা অপকারিতাছাত্রদের সেসব খুব একটা মনে ধরেনিভালো লেগেছে দুই বন্দীর গল্পগল্পচ্ছলে বললেও তা ঠিক গল্প নয়, বাস্তবঘটনা ছাপা হয়েছে পত্রিকায়প্রেমকাহিনি বলে বেশি ভালো পছন্দ হয় ছাত্রদেরছেলেটি ও মেয়েটির প্রথম দেখা হয় মহানগর আদালত চত্বরেদুজনই পুলিশের হাতে বিভিন্ন অপরাধে আটকআদালতে হাজির করা হয়েছে পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায়হয় জামিন, না হয় সাজা, না হয় আরেক তারিখে হাজির করার নির্দেশকোমরে রশি, হাতে হাতকড়াচোখ তো আর বন্ধ নয়দুজন দেখে দুজনকেআর প্রথম দেখাতেই প্রেমআদালতে হাজির করার আগে রাখা হয় এক ঘরেএ মাথায় ছেলেটি ও মাথায় মেয়েটিতখনই কথা বলে তাদের চোখবুঝে নেয় একে অন্যের মনের কথাএই প্রেমের মাঝে এল ঘুষলেনদেন হলো সন্তর্পণেকনস্টেবলের সহায়তায় দুজনের দেখা হলো বাথরুমেপ্রেমের গল্প এখানেই শেষ নয়জেলেই বোঝা গেল লক্ষণমা হবে মেয়েটিজামিনে ছাড়াও পেলজামিনে ছাড়া পেল ছেলেটিকিন্তু বিয়ে তো দূরের কথা, মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের কথা স্বীকারই করল না ছেলেটিমেয়েটা কী আর করে, ঘুরে বেড়ায় এখানে-সেখানেযায় এর কাছে, ওর কাছেঅধিকার আর আসে নাআরও অনেক কথাই বলেছিল লোকটিকিন্তু এই লোক কী বলবে, তা আঁচ করতে পারে না আদর্শ কলেজের ছেলেরা

লোকটি গলা খাঁকারি দেয়পানির গ্লাস থেকে শুষে নেয় তরলটুকুচাঙা হয়ে বলতে শুরু করে-আমার নাম মাহমুদুল ইসলামইচ্ছে ছিল সরকারি চাকরি করবমানে বিসিএস করে শেষ বয়সে সচিব হবসচিব যদি হয় বটগাছ, তবে কলেজ লাইফ হলো সে গাছ লাগানোর সময়মানে উপযুক্ত সময়সেটা আমি জানতামশুধু জানতাম না, কিছু না থেকে মানুষের জীবনে অনেক কিছু হতে পারেসে অনেক কিছু অনেক সময় আনন্দের হয়, আবার অনেক সময় আনন্দের হয় নাএটাই আজকের আমার বলার বিষয়যাহোক, আমি যেহেতু কলেজ লাইফেই জানতাম বীজ বুনেছি, কাজেই আমার প্রস্তুতি ছিলপরীক্ষার ফল ভালো করার তুমুল আগ্রহও ছিলআমি জানতাম, কলেজে ভালো ফল না করলে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারব নাবিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো ফল না করলে বিসিএসে ভালো করব নাবিসিএস এ ভালো না করলে এডমিন ক্যাডার পাব নাকাজেই আমার পড়ালেখায় মনোযোগের কোনো ঘাটতি ছিল নাআমি যথারীতি বিশ্ববিদ্যালয় পাস করলামএমনকি বসে না থেকে একটা চাকরিও জুটিয়ে নিলামতাতে ঢাকায় থাকা সহজ হলো, আবার মাস শেষে হাতে কিছু টাকাও আসতে লাগল

কথাগুলো বলে মাহমুদ সাহেব একটু থামেনপানি পান করেন কয়েক ঢোঁকদেখে হলঘরে পিনপতন নীরবতাএমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথা সে বলেনি যাতে এই নীরবতা আসতে পারেবোঝা গেল, এরই মধ্যে ছাত্রদের ভালো শ্রোতা হাওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছেতারা কাজ করছে প্রিন্সিপালের চিন্তামতোহতে পারে তা মনোযোগ দেওয়ার অভিনয়অভিনয় না বাস্তবতা কে দেখতে আসছেতার কাজ নিজের জীবন নিয়ে কিছু বলাতিনি বলতে শুরু করলেন- তো কিছু টাকা হাতে এলে আমাদের বাবা-মায়েদের মাথা ঠিক থাকে নাজীবন যে একটা চাকরিতেই শেষ হয়ে যায় না, তা তারা বুঝতে চান নাতারা মনে করেন, চাকরি একটা হলেই হলোকিন্তু নিজের কাক্সিক্ষত চাকরিটি না পাওয়া পর্যন্ত মানুষ যে সফল হয় না, তা তারা বুঝতে চান নাআমার বাবা-মাও বুঝতে চাইলেন নাআমি যতই বলি, মনের মতো চাকরি হোক, সরকারি চাকরি পাই আগে, তারপর বিয়ে, তারা ততই বলতে থাকেন, বেসরকারি চাকরিজীবীরা কি বিয়ে করে না?

হলরুমের এ মাথা থেকে ও মাথায় একটা হাসির হিল্লোল বয়ে গেলকেউ কেউ মুখরিত হাততালিতেমেয়েদের অনেকেরই নাকের ওপর ঘাম, গাল হলো লালবিয়ের মানে এই বয়সেই তাদের অনেকেই জানেছেলেদের কাছে তা এখনো একটা উন্মাদনা মাত্রপ্রকৃতির সূক্ষ্ম পার্থক্য আচমকা মনে ধরল মাহমুদেরতাতে সে কিছুটা বিচলিত হলো

যাহোক, কথা যা-ই বলি, যুক্তি যা-ই দেই, কোনো কিছুতে কোনো কাজ হলো নাআমার বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক হয়ে গেলটাকাপয়সা আটকাল নাবাবা নিজেই জমানো টাকা ভেঙে বিয়ের আয়োজন করলেনআমি চুপি চুপি একটা হীরার নাকফুল কিনে নিলাম বউকে উপহার দেব বলেঅমত করি আর মত, যা-ই করি না কেন, নতুন বউ দেখে মনে আওড়ালাম রবীন্দ্রনাথের সেই কথা, আমি তাহাকে পাইলামএ আমার সম্পত্তি নয়, সম্পদ

এবার দারুণ হাততালি পড়ল হলরুমেতাতে ভয় পেয়ে জানালার কার্নিশ থেকে উড়ে পালাল এক জোড়া কবুতরসেই শব্দে চমকে উড়ে গেল একটা চড়ুইসেটা নেমেছিল মাটি খুঁটিয়ে কিছু একটা পেতেসেই মাটির রং অবশ্য ঢাকা আছে সবুজ ঘাসেসেই ঘাস শেষ হয়েছে পুকুরের পানির কাছে এসেপানির রংও শ্যাওলার উপস্থিতিতে সবুজচুন দিয়ে তা পরিষ্কার করতে হবেমাছ চাষের বুদ্ধি এখনো নতুন প্রিন্সিপালের মাথায় আসেনি বলে তাতে চাষ শুরু হয়নিআগের প্রিন্সিপাল টাকা কামানোর চেয়ে জ্ঞান বিতরণকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন কিনাঅবশ্য তাতেও লাভ হয় নাইতার আমলে ছেলেরা ভালো ফল করে নাইআবার পুকুরেও মাছ চাষ করে নাইকেবল এই দুপুরেও সেই পুকুরে পোঁতা একটা লাঠির মাথায় বসে থাকে একটা মাছরাঙা

হাততালি শেষ হলে মাহমুদুর বুঝতে পারে, শ্রোতাদের বয়স অল্পতাই এমন একটা সংলাপে নড়ে উঠেছে তাদের ভেতরটাতিনি জীবনের যে কঠিন উপলব্ধি বলতে এসেছেন, তা তারা কীভাবে নেবে একপলক বোঝার চেষ্টা করলেনতারপর ভাবলেন, বোঝাবুঝির কিছু নাইতার কাজ বলা, সুতরাং গল্প বলে শেষ করা উচিতমানে জীবনের কথাটি গল্পের ছলে বলা উচিত

যা বলছিলামশুরু করে মাহমুদনতুন বউ ভালো লাগেশাড়িতে ভালো লাগে, চুড়ির শব্দে ভালো লাগে, অলস দুপুরে যখন কথা বলতে বলতে হাই তুলে, দেখি ভালো লাগে

হাসির ঢেউ আবারও বয়ে গেল হলরুমে

তো, বউ নিয়ে ফুচকা খাই, ঘুরতে যাইচাকরি করি, বই পড়িস্বপন দেখি সরকারি চাকরিরতখন একদিন ঘটনাটি ঘটেতাতে আমার জীবন বদলে যায়আমি বুঝতে পারি, পৃথিবীতে এমন অনেক সময় আসে যখন কিছু না থেকে অনেক কিছু হতে পারেমানে ফ্রম নাথিং সামথিং জয়ফুল অর ডেঞ্জারাস ক্যান হ্যাপেনমানে, কিছুই না একদম অস্তিত্বহীন কোনো ঘটনা থেকে বিশাল কিছু হতে পারেসে কথাটি বলব আজসবাইকে অনুরোধ করব খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতেএমন ঘটনা আমাদের যে কারও জীবনে হতে পারেশতকরা হিসাবে তা যদি শতকরা এক ভাগ মানুষের জীবনে হয়, তবে তা যার জীবনে হলো তার জন্যে কিন্তু শতভাগকাজেই সাবধানঘটনার শুরু সেদিন বিকালেআমি অফিস থেকে ফিরতেই বউ বলল, নিউ মার্কেট যাবআপনারা নিউ মার্কেট চিনেন তো?

ছাত্ররা এক বাক্যে বলল, চিনিতাতে মাহমুদ নিশ্চিত হলেন, সবার মনোযোগ আছে

আমি বললাম, গত সপ্তাহে না নিউ মার্কেট গেলে, কথা এগিয়ে নেয় মাহমুদ

বউ বলল, সেটা তো গত সপ্তাহের ব্যাপারসাত দিন পার হয়ে গেছে

আজই যেতে হবে?

আজই

কী আর করাপড়েছি মোগলের হাতে, খানা খেতে হবে সাথেআমি সম্মত হলামনিউ মার্কেট মেয়েদের জন্য একটা বাগান, মেয়েরা যেন একেকজন প্রজাপতিএই দোকানে ওড়ে, ওই দোকানে ঘুরেএটা কিনে, ওটা ধরে, এটা ঘষে, ওটা মুছেওখানে সময় থেমে গেলে বোধ হয় বাঙালি মেয়েদের চাইতে আর কেউ বেশি খুশি হতো না

আমার জন্য সেটা আনন্দের ছিল নাএকে তো সারা দিন অফিস করার ক্লান্তি, তারও পর ওর এটা-সেটা দেখে সময় নষ্ট করায় আমার বিরক্তির সীমা ছিল না

 

ও বলল আকাশি টিপ নিই?

বললাম, নাও

তাহলে যেতে হবে গাউছিয়াএখানে আকাশি রং পাচ্ছি না

আমরা গাউছিয়া গেলামআকাশি টিপও পেলামসাইজ মিললকিন্তু ফেরার পথে আমি চাইলাম সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যেতে, আমার বউ বলল রিকশায় যাবেআমি তাকে বোঝাতে চাইলাম, তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার জন্য সিএনজির বিকল্প নেইসে আমাকে বোঝাতে চাইল, রিকশার চেয়ে রোমান্টিক বাহন আর নেই

হলরুমে আবারও হাসির ঢেউ বয়ে গেল

তর্ক থামল নারিকশা চলছে, তর্ক চলছেপথ এগোচ্ছি, তর্কেও এগোচ্ছিআচমকা আমার বউ রিকশা থেকে নেমে যেতে চাইলঠিক কোন কথা শুনে সে নেমে যেতে চেয়েছিল, এখন তা আর মনে নেইঅর্থাৎ কথাটা এতই তুচ্ছ ছিল যে সেটা আমি আর মনে রাখতে পারিনিআমার ধারণা, সেই কথা আমার বউও মনে রাখেনিকিন্তু ঘটনাটি আমরা কেউ চাইলেও ভুলে থাকতে পারব নাসেই ঘটনা বদলে দেয় আমাদের জীবনটানা এক যুগের বিরহআমি ছিটকে পড়ি আমার জীবনের লক্ষ্য থেকেহতে চেয়েছিলাম গাছ, হয়েছি আগাছা

যাহোক, আমি তার হাত ধরলামনামতে দিতে চাই নাকে চায় তার বউ রাগ করে রিকশা থেকে নেমে যাককিন্তু হাত ধরতেই তার বল বেড়ে গেল অনেক সাথে রাগওযেকোনোভাবে সে নামতে চায়যাবে অন্য রিকশায়যদি অন্য কোথাও যেত তাহলে একটা কথা ছিলযাবে বাসায়, কিন্তু আমার সঙ্গে যাবে নাআমিও রেগে গেলামগলার স্বরে সে রাগ ফুটে উঠলবউ চেষ্টা করছে হাত ছাড়িয়ে নিতেতা আশপাশের মানুষের মনোযোগ কাড়ে

রাস্তার পাশেই বেশ কিছু দোকানআছে একটা ফাস্ট ফুডের দোকানওসেখান থেকে বেরিয়ে এল এক তরুণ

কী হইছে? ওই ব্যাটা হাত ছাড়

আমি বললাম, মাস্তানি করতে আইসো না, ভাগো

মাস্তানি মানে, ওই মেয়ের হাত ছাড়, বলেই সে আমার বউয়ের হাত ধরল

বউ হতভম্বলোকটা এগিয়ে এসে আমার কলার ধরলদিল এক ঘুষিতাতেই আমি বউয়ের হাত ছেড়ে দিইনামি রিকশা থেকেএদিক-ওদিক তাকাইদেখি, একটা শাবল পড়ে আছে ফাস্ট ফুডের দোকানের দরজার পাশেসেটা সেখানে কে রাখল, কেন রাখল আমি জানি নাতা তুলে ঢুকিয়ে দিলাম লোকটার শরীরে

হলরুমে নীরবতা

লোকটা কেঁপে উঠলতারপর সব শেষলোকটার জীবন, বউয়ের রাগ, আমার ভবিষ্যৎ, সব শেষ

আমার আর কিছু বলার নেইশুধু একটা কথা ছাড়াকোনো কারণ ছাড়াই অনেক কিছু হয়ে যায় অনেক সময়সাফল্যের জন্য তা এড়িয়ে চলতে হয়

কারও কোনো প্রশ্ন?

কোনো প্রশ্ন নেই


আপনাদের মতামত দিন:


সকল খবর
চলমান প্রচ্ছদ