রোজার জরুরি কিছু মাসলা-মাসায়েল | সময় বিচিত্রা
রোজার জরুরি কিছু মাসলা-মাসায়েল
Somoy Bichitra

রোজা ফারসি শব্দ৷ এর অর্থ হচ্ছে দিন৷ যেহেতু এই আমলটি দিনের শুরু থেকে শেষাংশ পর্যন্ত পালন করা হয়, তাই একে রোজা বলা হয়৷

আর আরবিতে এর নাম সাওম; যার শাব্দিক অর্থ কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা৷ শরিয়তের পরিভাষায় সুবেহ সাদিকের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যস্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশে পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকাকে সাওম বা রোজা বলা হয়৷ দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে আরবি বর্ষপঞ্জিকার নবম মাস রমজানে মুসলমানদের জন্য রোজা ফরজ হয়৷ আল্লাহর নবী (সা.) ওই সালের রমজান থেকে মোট ৯ বার রমজানের রোজা পালন করেন৷
ইসলামের রোকনগুলোর মধ্যে রমজান মাসের রোজার স্থান হলো তৃতীয়, যা প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর ফরজ৷ এর অস্বীকারকারী কাফের এবং বিনা কারণে পরিত্যাগকারী ফাসেক৷

রোজার নিয়ত
রমজান মাসে রোজার নিয়ত বা অন্তরে ইচ্ছা বা আগ্রহকে দৃঢ় করে নেওয়া জরুরি৷ মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা জরুরি নয়৷ যদি কেউ মুখে বা মনে মনে রোজার নিয়ত না করে বা রোজার রাখার জন্য মনস্থির না করে পুরো দিন পানাহার থেকে বিরত থাকে তবে তা রোজা বলে গণ্য হবে না৷

আরবি ভাষায় রোজার নিয়ত: নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রামাদানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাক্কাব্বাল মিনি্ন ইন্নাকা আনতাস সামীউল আলীম৷ এর বাংলা অর্থ: (হে আল্লাহ) আপনার সন্তুষ্টির জন্য আগামীকাল রমজানের ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করছি৷ আমার তরফ থেকে আপনি তা কবুল করুন৷ নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাত৷

অথবা, নাওয়াইতু আন আছুমা লিল্লাহি তাআলা…এটুকু বললেও হবে৷ আবার বাংলায় ‘আমি আল্লাহর জন্য রোজা রাখার নিয়ত করছি’ বললেও কোনো ক্ষতি নেই৷

আরবি ভাষায় ইফতারের দোয়া: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন৷ এর বাংলা অর্থ: (হে আল্লাহ) আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য ও তোমারই ওপর ভরসা করে রোজা রেখেছিলাম এবং হে রাহমানির রাহিম তোমারই অনুগ্রহ দ্বারা ইফতার করছি৷

যেসব কারণে রোজা নষ্ট হয়

১. নাক বা কানে ওষুধ প্রবেশ করালে৷
২. ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে বমি করলে৷
৩. কুলি করার সময় গলার মধ্যে পানি চলে গেলে৷
৪. নারী স্পর্শ বা এ-সংক্রান্ত কোনো কারণে বীয বের হলে৷
৫. খাদ্য বা খাদ্য হিসেবে গণ্য নয়, এমন কোনো বস্তু গিলে ফেললে৷
৬. আগরবাতির ধোঁয়া ইচ্ছা করে গলা বা নাকের মধ্যে প্রবেশ করালে৷
৭. বিড়ি-সিগারেট পান করলে৷
৮. ভুলে খেয়ে ফেলার পর ইচ্ছা করে পুনরায় খাবার খেলে৷
৯. সুবেহ সাদিকের পর খাবার খেলে৷
১০. বুঝে হোক বা না বুঝে, সূর্য ডোবার আগে ইফতার করলে৷
১১. ইচ্ছা করে স্ত্রী সহবাস করলে৷

যেসব কারণে রোজা মাকরুহ হয়

১. বিনা কারণে জিনিস চিবিয়ে বা লবণ কিংবা কোনো বস্তুর স্বাদ গ্রহণ করা৷ যেমন: টুথপেস্ট, মাজন, কয়লা ইত্যাদি দিয়ে দাঁত মাজা৷
২. গোসল ফরজ অবস্থায় সারা দিন গোসল না করে থাকা৷
৩. শরীরের কোথাও শিঙা ব্যবহার করা বা রক্ত দান করা৷
৪. পরনিন্দা করা৷
৫. ঝগড়া করা৷
৬. রোজাদার নারী ঠোঁটে রঙিন কোনো বস্তু লাগালে, যা মুখের ভেতর চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে৷
৭. রোজা অবস্থায় দাঁত ওঠানো বা দাঁতে ওষুধ ব্যবহার করা, তবে একান্ত প্রয়োজনে তা জায়েজ৷

যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না কিংবা মাকরুহও হয় না

১. মিসওয়াক করলে৷
২. মাথায় বা শরীরে তেল লাগালে৷
৩. চোখে ওষুধ বা সুরমা লাগালে৷
৪. গরমের কারণে পিপাসায় গোসল করলে৷
৫. সুগন্ধি ব্যবহার করলে৷
৬. ইনজেকশন বা টিকা দিলে৷
৭. ভুলক্রমে পানাহার করলে৷
৮. ইচ্ছা ছাড়াই ধুলাবালি বা মাছি ইত্যাদি প্রবেশ করলে৷
৯. কানে পানি প্রবেশ করলে৷
১০. দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত বের হলে৷

যেসব কারণে রোজা না রাখলেও ক্ষতি নেই

১. কোনো অসুখের কারণে রোজা রাখার শক্তি হারিয়ে ফেললে অথবা অসুখ বৃদ্ধির ভয় হলে৷ তবে পরে তা কাজা করতে হবে৷
২. গর্ভবতী স্ত্রীলোকের সন্তান বা নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কা হলে রোজা ভঙ্গ করা বৈধ, তবে কাজা করতে হবে৷
৩. যেসব স্ত্রীলোক নিজের বা অপরের সন্তানকে দুধ পান করান, রোজা রাখার ফলে যদি দুধ না আসে, তবে রোজা না রাখার অনুমতি আছে; কিন্তু পরে কাজা আদায় করতে হবে৷
৪. শরিয়তসম্মত মুসাফির অবস্থায় রোজা না রাখার অনুমতি আছে৷ তবে রাখাই উত্তম৷
৫. কেউ হত্যার হুমকি দিলে রোজা ভঙ্গের অনুমতি আছে৷ পরে এর কাজা করতে হবে৷
৬. কোনো রোগীর ক্ষুধা বা পিপাসা এমন পর্যায়ে চলে গেল এবং কোনো দ্বীনদার মুসলিম চিকিত্‍সকের মতে রোজা ভঙ্গ না করলে তখন মৃতু্যর আশঙ্কা আছে৷ তবে রোজা ভঙ্গ করা ওয়াজিব৷ পরে তা কাজা করতে হবে৷
৭. হায়েজ-নেফাসগ্রস্ত (বিশেষ সময়ে) নারীদের জন্য রোজা রাখা জায়েজ নয়৷ পরবর্তী সময়ে কাজা করতে হবে৷


আপনাদের মতামত দিন:


সকল খবর
চলমান প্রচ্ছদ