দেড় দশকের উড়োজাহাজ-শিল্প স্থানীয়রা ব্যর্থ, সুযোগ নিচ্ছে বিদেশিরা | সময় বিচিত্রা
দেড় দশকের উড়োজাহাজ-শিল্প স্থানীয়রা ব্যর্থ, সুযোগ নিচ্ছে বিদেশিরা
সাইফুল হাসান
13

আকাশপথে যাত্রী পরিবহনে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞতা খুব বেশি দিনের নয় ৷ গত দেড় দশকে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে ৮টি প্রতিষ্ঠান ৷ এ খাতের অগ্রদূত জিএমজি এয়ারলাইনস আর সব শেষ সংযোজন নভোএয়ার ৷ বর্তমানে তিনটি প্রতিষ্ঠান টিকে আছে, বাকি সব ঝরে গেছে৷ মূলত এভিয়েশন ব্যবসায় অনভিজ্ঞতা, দুবর্ল ব্যবস্থাপনা, রাতারাতি বিনিয়োগ তুলে আনার প্রবণতা, টিকিটের উচ্চ মূল্য, প্রতিকূল সরকারি নীতিসহ নানা প্রতিকূলতায় বন্ধ হয়ে গেছে পাঁচটি এয়ারলাইনস ৷ রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করলেও তারা লাভজনক অবস্থায় আসতে পারেনি ৷
দ্রুতই আন্তর্জাতিক (মালয়েশিয়া) রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ৷ ইতিমধ্যেই দুটি বোয়িং-৭৩৭ ড্রাই লিজে আনার চুক্তি করেছে ৷ এর মধ্যে একটি এ মাসেই দেশে এসেছে ৷ নভোএয়ার চলতি বছরের জানুয়ারিতে চালু হলেও ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবসা করাই তাদের লক্ষ্য ৷ জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি এখন থেকেই মিয়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে ৷
সমস্যার চক্রে উড়োজাহাজ-শিল্প গত দেড় দশকে বেসরকারি খাতের অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান আকাশপথে যাত্রী পরিবহনের জন্য ব্যবসায় এসেছে এবং গুটিয়ে চলেও গেছে ৷ সেবা খাতের এই শিল্প অতিমাত্রায় বিনিয়োগ ঘন এবং উচ্চমাত্রার সংবেদনশীল বলে পরিচিত ৷ এই ব্যবসায় বিনিয়োগকারীদের উড়োজাহাজ পরিচালনা বিজ্ঞান ও কৌশল, সেবা এবং যাত্রী সন্তুষ্টি, দূরত্ব অনুপাতে আসন প্রতি যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ, আন্তর্জাতিক আইন-কানুনসহ আরও বেশ কিছু বিষয়ে সম্যক ধারণা থাকতে হয়৷ তা না হলে বাংলাদেশের মতো দেশে উড়োজাহাজ খাতে বিনিয়োগ করে মুনাফার মুখ দেখা খুবই কঠিন ৷
খাত-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশে এই ব্যবসায় যারাই এসেছে, তাদের শিল্প ও এর খুঁটিনাটি বিষয়ে স্পষ্ট ধারণার অভাবই বেশির ভাগ কোম্পানিকে ডুবিয়েছে ৷ আরেকটি বিষয় হলো, ভালো ব্যবসায়িক পরিকল্পনার অভাব৷ বিশেষ করে, এ খাতের পরিচালন-ব্যয় অন্য যেকোনো খাতের তুলনায় অনেক বেশি ৷ কিন্তু বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানিগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, এ বিষয়ে যোগ-বিয়োগের হিসাবে টনটনে থাকলেও পরিচালন-ব্যয় সম্পর্কে নিখুঁত পরিকল্পনার অভাব ছিল বেশির ভাগ কোম্পানির ৷
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, যেসব এয়ারলাইনস টিকতে পারেনি, তাদের মূল সমস্যা ব্যবসা সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব৷ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই ব্যবসায় যারা এসেছে, তাদের বেশির ভাগই ভাড়াটে লোকজন দিয়ে এয়ারলাইনস দাঁড় করাতে চেয়েছে ৷ অভিজ্ঞতার অভাবে শুধু কমদামি উড়োজাহাজ দিয়ে উচ্চমানের বা স্মার্ট এই ব্যবসায় সফল হতে চেয়েছেন অনেক উদ্যোক্তা ৷ কিন্তু পুরোনো মডেলের কমদামি উড়োজাহাজটি ব্যবসায়িকভাবে টিকে থাকার নিশ্চয়তা দেয় কি না, সেটা ভেবে দেখেনি৷ ফলে লক্কড়ঝক্কড় মার্কা উড়োজাহাজ বহরে যোগ করে শুরুতে উল্লাস করেছে, পরে মাথা চাপড়েছে৷ এসব উড়োজাহাজে তেলের খরচ বেশি, প্রায় বৃদ্ধ একটি উড়োজাহাজের শারীরিক সমস্যাও কম নয় ৷ সব মিলিয়ে সাময়িক লাভ গুনতে গিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতির শিকার হয়েছে অনেকগুলো এয়ারলাইনস কোম্পানি ৷
উড়োজাহাজ লিজে বা কিনে আনলে কোম্পানিকে মাস শেষে লিজ অথবা ঋণের প্রিমিয়াম সুদসহ গুনতে হয় ৷ পাশাপাশি তেলের খরচ, বিমানবন্দরের সার্ভিস চার্জ, গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং, সিভিল এভিয়েশনের নেভিগেশন চার্জ, কর্মচারীদের বেতনসহ আরও অনেক খরচ তো আছেই ৷ এসব মিলিয়ে টাকার অঙ্ক এত বড় যে সব খরচ বাদ দিয়ে মাস শেষে কোম্পানির হিসাবে লাভ যোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে ৷ এ ক্ষেত্রে লিজের পরিবর্তে এককালীন বিনিয়োগ করে উড়োজাহাজ কিনতে পারলে সেটা বিনিয়োগকারীদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে সক্ষম ৷
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থসংকটের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ প্রতিকূল পরিবেশের কারণে ৫টি কোম্পানি ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে ৷ কেননা, কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগের পর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সরকারি সমর্থনের অভাবে অপারেশনের যাওয়ার আগেই ধুঁকতে শুরু করেন উদ্যোক্তারা ৷ অন্যদিকে, ১৫ বছর ধরে বেসরকারি এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলো যাত্রী পরিবহন করলেও এ খাতের জন্য সঠিক ও যুগোপযোগী নীতিমালা করতে পারেনি সরকার ৷
উড়োজাহাজ-শিল্প বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, বাংলাদেশে গত তিন দশকে একটি ভোক্তাশ্রেণী গড়ে উঠেছে, যাদের কাছে আকাশপথে যাতায়াতের পয়সা আছে৷ কিন্তু তা সীমাহীন নয় ৷ অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে চাহিদা আছে, প্রতিষ্ঠানগুলো এসব রুটে যাত্রীও পরিবহন করতে চায়৷ সমস্যা হচ্ছে দূরত্ব ৷ বাংলাদেশের কোনো গন্তব্যই ৪৫ মিনিটের বেশি নয় ৷ অল্প দূরত্বের কারণে কোম্পানিগুলোর ফ্লাইটপ্রতি খরচ অনেক বেড়ে যায় ৷ এই খরচ সমন্বয় করে টিকিটের দাম নির্ধারিত হলে তা বেশির ভাগ যাত্রী কিনতে পারবে না বা তাদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় ৷ ফলে সরকারের নীতিসহায়তা ছাড়া অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিবহন করে লাভ করা প্রায় অসম্ভব ৷
বিশ্ব বদলে গেছে, বদলে গেছে ব্যবসার ধরন ৷ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুনিয়াজুড়ে উড়োজাহাজ-শিল্পে যে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এসেছে, সেই তুলনায় নিজেদের তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন কতৃপক্ষ ৷ নিয়ন্ত্রক এই সংস্থাটিতে প্রয়োজনের তুলনায় লোকবল কম ৷ গত ১৫ বছরে সংস্থাটির কাজ বেড়েছে পনেরো শ গুণ, কিন্তু লোকবল বাড়েনি ৷ এয়ারলাইনসগুলো পরিচালনা, উড়োজাহাজ লিজে আনা বা কেনার পর উড্ডয়নের সনদ দেওয়া, আকাশপথ বন্টন, জ্বালানি ক্রয়, বিভিন্ন সেবার মূল্য ইত্যাদির জন্য কোনো নির্দিষ্ট বিধিমালা তৈরি হয়নি৷ ফলে, সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রকদের ব্যবসা-বান্ধব নীতির অভাবে স্বাধীনভাবে বিকশিত হতে পারছে না খাতটি ৷
বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আরেকটি বিপদের নাম রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিমান৷ জন্ম থেকেই লোকসানের ঘানি টেনে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি ৷ শোনা যাচ্ছে, অচিরেই নতুন করে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করবে বিমান৷ সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিমানে জবাবদিহি, লাভ-লোকসানের হিসাব কম৷ সরকার যেহেতু প্রতিষ্ঠানটির সব খরচ বা দায়-দায়িত্ব বহন করে, ফলে বিমান প্রতিযোগী হলে বেসরকারি খাতের জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে ৷ কেননা, বিমানের টিকিটের মূল্য কম, জ্বালানির দাম নিয়ে মাথা ঘামাতে হয় না, এমনকি সময়মতো টাকা শোধ না করলেও কিছু এসে যায় না ৷ অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জ্বালানির মূল্য বাবদ অগ্রিম টাকা জমা দিতে হয় জ্বালানি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৷ এমনকি বিমানের জন্য সিভিল এভিয়েশনের সেবার মূল্য, চার্জসমূহ তুলনামূলক কম ৷ কেননা বিমান রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিভিন্ন চার্জ বাবদ টাকা পরিশোধের চাপ প্রতিষ্ঠানটির ওপর অন্যদের তুলনায় কম ৷
কাজী ওয়াহিদ বলেন, ‘বিমান প্রতিযোগিতায় আসা মানেই বেসরকারি খাতকে অসুস্থ প্রতিযোগিতার মধ্যে ঠেলে দেওয়া ৷ অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চালিয়ে বিমান কোনো দিন লাভ করেনি ৷ ফলে আমরা চাই-ই না বিমান অভ্যন্তরীণ রুটে আসুক ৷ তারা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রুটগুলোতে ফ্লাইট চালনা করছে, এটাই সবচেয়ে যৌক্তিক৷ সরকার সবার অভিভাবক, এখন বিমানকে বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দিলে সেটা কোনোভাবেই যৌক্তিক হবে না ৷ বিমান লোকসান করলে কিছু এসে যায় না ৷ অন্যদিকে বেসরকারি খাতে অব্যাহত লোকসান হলে কী হয়, তার প্রমাণ বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ৷’

সম্ভাবনাময় বাজার বাংলাদেশ
যাত্রী এবং পণ্য উভয় বিচারেই বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় বাজার৷ ২০০৯-১২-এই চার বছরে বাংলাদেশে যাত্রী প্রবৃদ্ধির হার ২১ শতাংশ ৷ অর্থনৈতিক মন্দাভাব কেটে গেলে এ খাতে প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটবে বলে আশা খাত-বিশেষজ্ঞদের৷ যদিও এই প্রবৃদ্ধির সুফল বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো নিতে পারছে না ৷ সুবিধা নিচ্ছে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো ৷ বাংলাদেশে আকাশপথে যাত্রী পরিবহনের বাজার ২৫ হাজার কোটি টাকার৷ ২০১০ সালে সরকারি-বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর দখলে ছিল এর ৩৫ শতাংশ ৷ ২০১১ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩১ শতাংশে৷ অর্থাত্‍ মাত্র এক বছরে দেশীয় এয়ারলাইনসগুলোর বাজারে অংশীদারি কমেছে ১ হাজার কোটি টাকার ৷

পেশাদারির অভাব ও অব্যবস্থাপনার কারণে ২০১২ এবং এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, দেশীয় এয়ারলাইনসগুলো যেখানে বাজার হারাচ্ছে, বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াচ্ছে ৷
এভিয়েশন সূত্র বলছে, প্রবৃদ্ধি ২১ শতাংশ আছে, সামনে এটা আরও বাড়বে ৷ কিন্তু বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এর সুফল নিতে না পারলে এভিয়েশন খাত থেকে বাংলাদেশ লাভবান হবে না৷ গত বছর থেকে উড়োজাহাজ-সংকটের কারণে বাংলাদেশ বিমান নিয়মিত ফ্লাইটসংখ্যা কমিয়েছে কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুটে ৷ উন্নত যাত্রীসেবা আর ফ্লাইট বাড়িয়ে এই জায়গা নিয়েছে বিদেশি কোম্পানিগুলো ৷

শিল্প বিকাশে চাই সরকারি সহযোগিতা
দেশের মধ্যে সহজ সংযোগ (কানেকটিভিটি) প্রতিষ্ঠায় বেসরকারি উড়োজাহাজ কোম্পানিগুলোর অবদান অনেক ৷ যদিও টিকতে না পেরে অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেছে; এর পরও কানেকটিভিটি প্রতিষ্ঠায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে ৷ এ মুহূর্তে দেশে বেসরকারি তিনটি ও বিমান মিলে চারটি প্রতিষ্ঠান আকাশপথে যাত্রী পরিবহন করছে৷ বিমান আন্তর্জাতিক রুটের অংশ হিসেবে সিলেট এবং চট্টগ্রাম রুটে ফ্লাইট চালাচ্ছে ৷ এ ছাড়া, ঢাকা-যশোর-কঙ্বাজার-রাজশাহী-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ইউনাইটেড, নভোএয়ার এবং রিজেন্ট ফ্লাইট পরিচালনা করছে ৷ বরিশাল ও সৈয়দপুরে ইউনাইটেডের ফ্লাইট রয়েছে ৷
এভিয়েশন খাতের ঊধর্তন ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশে বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রুটে আর কোনো প্রতিষ্ঠানের সেবা দরকার নেই ৷ নতুন করে আরও প্রতিষ্ঠান এলে বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে ৷ এতে যাত্রী-দুর্ভোগ বাড়বে৷ যে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ব্যবসা করছে, তাদের দাঁড়ানোর জন্য আরও নূ্যনতম পাঁচ বছর সময় দেওয়া উচিত৷ এর আগে প্রয়োজন বেসরকারি খাতে উড়োজাহাজ পরিচালনায় সরকারি নীতিমালা ৷
কাজী ওয়াহিদ বলছিলেন, বিশ্বের কোথাও সরকারের সহযোগিতা ছাড়া বেসরকারি খাত বিকশিত হতে পারেনি৷ পারেও না ৷ ফলে বেসরকারি এভিয়েশন খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারের এগিয়ে আসা উচিত৷ অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে চাহিদা আছে, কিন্তু তা পূরণে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা অর্জন, স্থায়িত্ব, ব্যবসায়িক সক্ষমতা অর্জনে সরকারের সহযোগিতা দেওয়া উচিত ৷ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো করলে দেশের ভেতরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে, মানুষের সময় বাঁচবে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে৷ এগুলোতে সরকারেই লাভ ৷
ইন্টারনেট এবং অন্যান্য মাধ্যম থেকে জানা গেছে, একটি উড়োজাহাজ লিজে বা কিনে দেশে আনার জন্য সিভিল এভিয়েশনের যে নিয়ম রয়েছে, তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ৷ উড়োজাহাজ আনার ক্ষেত্রে সিভিল এভিয়েশন, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও শুল্ক বিভাগ থেকে অনুমতি নিতে হয় ৷ শুধু এই অনুমোদন নিতেই এক একটি প্রতিষ্ঠানের দেড় থেকে দুই মাস সময় লেগে যায় ৷ এই দীর্ঘসূত্রিতায় কোম্পানিগুলো অনেক সময় ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও পছন্দমতো উড়োজাহাজ আনতে পারে না ৷ কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো উড়োজাহাজের চাহিদা থাকায় লিজিং প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে চায় না৷ অন্যদিকে উড়োজাহাজ আনার পর আকাশে ওড়ার অনুমতি পেতেও প্রচুর সময় ব্যয় হয় ৷ ফলে উড়োজাহাজ থাকলেও লিজের টাকা ও সুদ গুনতে হয় এয়ারলাইনসগুলোকে ৷ দেশি এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলো সমস্যায় পড়ে বিদেশি পাইলটের কাজের বৈধতা নিতে৷ কেননা, পাইলটদের বৈধ করতে সিভিল এভিয়েশনের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট একটি দিনে পরীক্ষা নেয়৷ এতে বৈধ করার পূর্বপর্যন্ত বসিয়ে রেখে উচ্চ বেতন গুনতে হয় পাইলটদের ৷
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছিলেন, জ্বালানি তেলে ভতুর্কি দেওয়া সম্ভব না হলেও ক্রেডিটে জ্বালানি ক্রয়, ব্যাংকের সুদের হার কমাতে কাযর্কর ব্যবস্থা নেওয়া, বিমানবন্দর, হ্যান্ডেলিং, নেভিগেশন চার্জ কমানো, উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা বা শুল্ক কমিয়েসহ যেসব জায়গায় প্রণোদনা দেওয়ার সুযোগ আছে, সরকারের সেটা নিশ্চিত করা উচিত ৷ সরকারের সামান্য প্রণোদনা পেলেই খাতটি বিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত হতে পারে ৷ অন্যদিকে সরকারি প্রণোদনা মিললে যাত্রী পরিবহন খরচ কমিয়ে আনতে পারবে প্রতিষ্ঠানগুলো৷ ফলে কম টাকায় দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণ করতে পারবে মানুষ ৷ (সম্প্রতি দেশের অভ্যন্তরের বিমানবন্দরগুলোর জন্য দেশের এয়ারলাইনসগুলোর অ্যারোনটিক্যাল চার্জ মওকুফ করেছে সরকার৷)
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ খাতের একজন ব্যবসায়ী বলেন, নিয়মানুযায়ী বর্তমানে ২০ বছরের পুরোনো উড়োজাহাজ আনার অনুমতি আছে ৷ অনেকেই ১৯ বছর ৬ মাস, এমন উড়োজাহাজও এনেছে ৷ সরকারের উচিত এ ক্ষেত্রে উড়োজাহাজের বয়সসীমা আরও কমিয়ে দেওয়া৷ পুরোনো মডেলে ড্যাস-৮, ম্যাকডোনেল ডগলাস (এমডি) দিয়ে এই ব্যবসায় বাংলাদেশে টিকে থাকা কঠিন ৷ তাই উড়োজাহাজ ক্রয়ে সরকার বয়সসীমা আরও কমিয়ে আনলে এতে বিনিয়োগকারীর প্রাথমিক খরচ বাড়লেও দীর্ঘ মেয়াদে লাভ ৷
এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান ‘সময় বিচিত্রা’কে বলেন, ‘আমার জানামতে, বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর এ মুহূর্তে কোনো অভাব-অভিযোগ নেই৷ এর আগে তারা বিভিন্ন সেবার মূল্য কমাতে অনুরোধ জানিয়েছিল৷ আমরা ইতিমধ্যেই অ্যারোনটিক্যাল সেবা ফ্রি করে দিয়েছি, নন অ্যারোনটিক্যাল সেবায় কিছুই করার নেই, সেটা তাদের জানিয়ে দিয়েছি ৷ এরপর বিষয়টি যে বিবেচনায় নেই তা নয় ৷ কিন্তু সময়-সুযোগ হলেও এগুলোও সরকার দেখবে৷ তারা জ্বালানি মূল্যের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল ৷ আমরা জানিয়ে দিয়েছি, সম্ভব নয় ৷ কারণ, এটা সবার জন্য সমান৷ বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আমদানি, উড়োজাহাজ কিনে বা লিজে আনতে অনেক সময় লাগে ৷ আমি এ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছি যেন বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীদের এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়া যায় ৷’
তিনি যোগ করেন, ‘সরকার রানওয়েসহ পুরো বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন করছে ৷ বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান বাড়াতে নানা প্রকল্প চালু আছে ৷ এগুলোর সুফল কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেসরকারি খাতই ভোগ করবে ৷ ফলে আমরা তাদের ব্যবসা বিকাশে সহযোগীর ভূমিকা পালন করছি ৷’
নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মফিজুর রহমান, সরকার যদি কিছুই না করতে পারে, শুধু নীতিগত যেসব জটিলতা আছে তা দূর করতে পারলেই এ খাতটি অনেক এগিয়ে যাবে ৷
বেসরকারি উড়োজাহাজ-শিল্পের ইতিহাস
এভিয়েশন শিল্পের পাতা ওলটালে দেখা যায়, ১৯৯৬ সালে বেসরকারি খাতে প্রথম যাত্রীবাহী এয়ারলাইনস পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয় ৷ সে সময় এভিয়েশন ব্যবসায় আসে অ্যারো বেঙ্গল এয়ারলাইনস, এয়ার পারাবাত ও জিএমজি এয়ারলাইনস ৷ এই তিনটি এয়ারলাইনসই এখন বন্ধ ৷ সব শেষ গত বছর বন্ধ হয়ে যায় দেশের প্রথম বেসরকারি এয়ারলাইনস জিএমজি ৷ ২০০৭ সালে অনুমতি পায় বেস্ট এয়ার, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ও রয়েল বেঙ্গল এয়ারলাইনস৷ এর মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ টিকে থাকলেও বন্ধ হয়ে গেছে বেস্ট এয়ার ও রয়েল বেঙ্গল এয়ারলাইনস ৷ সব শেষ ২০১০ সালে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ এবং এ বছরের জানুয়ারিতে চালু হয় নভোএয়ার ৷

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেড বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিমান পরিবহন সেক্টরে প্রথম বিমান সংস্থা ৷ ২০০৭ সালের ১০ জুলাই ঢাকা-সিলেট রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে এয়ারলাইনসটির বর্তমানে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে তারা ৷ দেশে চট্টগ্রাম, কঙ্বাজার, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর এবং রাজশাহী রুটে এবং ঢাকা-দুবাই, লন্ডন, জেদ্দা, কুয়ালালামপুর, কাঠমান্ডু, ব্যাংকক এবং চট্টগ্রাম থেকে কলকাতা ও দুবাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে এয়ারওয়েজটি ৷
একসময় জিএমজিও অনেকগুলো রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করেছে এবং করুণ পরিণতির মধ্য দিয়ে বাজার থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের৷ ইউনাইটেড এয়ারও অনেকগুলো রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বটে, কিন্তু এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, পুঁজিবাজার থেকে ওঠানো অর্থ বিনিয়োগ করে পুরোনো উড়োজাহাজ দিয়ে বহর ভারী করেছে ৷ প্রতিষ্ঠানটির উড়োজাহাজের পরিচালনা খরচ এত বেশি যে লাভের মুখ দেখা খুবই কঠিন ৷ এই এয়ারলাইনসটির ভবিষ্যত্‍ নিয়ে শঙ্কা আছে খাত-সংশ্লিষ্টদের ৷ আর প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ-শঙ্কা ওপেন সিক্রেট ৷
চট্টগ্রামভিত্তিক হাবিব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান রিজেন্ট এয়ারওয়েজ (এইচজি এভিয়েশন লিমিটেড)৷ ২০১০ সালের নভেম্বর থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রা শুরু তাদের৷ ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুট দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরে ৪টি রুটে প্রতিদিন একাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে এয়ারলাইনসটি ৷ যাত্রা থেকে এখন পর্যন্ত ভালোই করছে প্রতিষ্ঠানটি ৷ আকাশপথে ভ্রমণকারীদের কাছে প্রতিষ্ঠানটির গ্রহণযোগ্যতাও তুলনামূলক ভালো৷ ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রা শুরুর কথা থাকলেও তা শুরু হচ্ছে এ মাসেই ৷
বন্ধ হয়ে যাওয়া বেস্ট এয়ার নতুন করে কাযর্ক্রম শুরুর উদ্যোগ নিলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি৷ জানা গেছে, ২০১১ সালের অক্টোবর থেকে নভেম্বর-এই সময়ের মধ্যে এয়ারলাইনসটি অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে কাযর্ক্রম চালুর জন্য বিমানবন্দরগুলোতে কক্ষ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছিল ৷ নভেম্বরের মধ্যে ৩টি এটিআর-৭২ উড়োজাহাজ লিজে এনে রুটগুলো চালু করার গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল ৷ এ ছাড়া ৩টি এয়ারবাস এ-৩২০ লিজে এনে কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, কলকাতা, কাঠমান্ডু ও দুবাইয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করার পরিকল্পনা নিয়েছিল এয়ারলাইনসটি৷ কিন্তু সেই উড়োজাহাজ আজ পযর্ন্ত দেশে আসেনি ৷
ব্রিটেনে বসবাসরত প্রবাসীরা ছিলেন বন্ধ হয়ে যাওয়া রয়েল বেঙ্গল এয়ারলাইনসের উদ্যোক্তা ৷ ২০০৭ সালে রয়েল ৫৫ লাখ পাউন্ড (প্রায় ৬৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা) তহবিল গঠন করে দুটি ড্যাস-৮-১০০ উড়োজাহাজ কেনে রয়েল বেঙ্গল এয়ারলাইনস ৷ একই বছর সিভিল এভিয়েশন থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী পরিবহনের লাইসেন্স পায় প্রতিষ্ঠানটি ৷ ২০০৮ সালের ৩১ জানুয়ারি বাণিজ্যিক যাত্রা করে ৷ কিছুদিনের মধ্যে অর্থসংকটে পড়ে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৬ মাসের বেতন বাকি রেখে ২০০৮ সালে বন্ধ হয়ে যায় এয়ারলাইনসটি৷ সিভিল এভিয়েশন কতৃর্পক্ষ রয়েল বেঙ্গল এয়ারলাইনসের একটি ড্যাস-৮-১০০ জব্দ করে এর ইঞ্জিন বিক্রি করে দেয়৷ এ বিষয়ে একটি মামলাও করে সিভিল এভিয়েশন কতৃর্পক্ষ ৷
সব শেষ এ বছরের জানুয়ারিতে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করে নভোএয়ার ৷ প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই ভালো উড়োজাহাজ এনে ব্যবসা পরিচালনার পরিকল্পনা নেয়৷ এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ডিসেম্বরে ইউরোপ থেকে অত্যাধুনিক দুটো উড়োজাহাজ নিয়ে আসে ৷ জেট সিরিজের এই উড়োজাহাজগুলো ইউরোপে খুবই জনপ্রিয় ৷ নভোএয়ার কতৃর্পক্ষ ভালো উড়োজাহাজ, বিশ্বমানের সেবা, দক্ষ ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে আকাশপথের যাত্রীদের মন জয় করার চেষ্টা করছে ৷ প্রাথমিকভাবে এই পরিকল্পনায় সফল হলেও দ্বিতীয় ধাপে উত্তরণের জন্য কি পরিকল্পনা নেয়, সেটা অবশ্য দেখার বিষয় ৷

আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রী পরিবহনের প্রস্তুতি নিচ্ছি
গ্রুপ ক্যাপ্টেন মফিজুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নভোএয়ার ৷
সময় বিচিত্রা: এ মুহূর্তে তিনটি এয়ারলাইনস ব্যবসা করছে৷ ছোট এ বাজারে আপনাদের টিকে যাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু?
মফিজুর রহমান: আমাদের মতো ছোট দেশে অভ্যন্তরীণ মার্কেটের যাত্রী পরিবহন করে লাভ করা যায় না ৷ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, চীনের মতো দেশ হলে আলাদা কথা৷ ফলে অভ্যন্তরীণ মার্কেটে সম্ভাবনা কম ৷ পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠান বিমান এখানে বেসরকারি খাতের প্রতিযোগী হিসেবে বাজারে আছে৷ তারা সবকিছু সস্তায় পায়, তাদের লস করলে হিসাব দেওয়া লাগে না ৷ কারও চাকরিও যায় না খারাপ পারফরমেন্সের কারণে ৷ ফলে বিমানকে প্রতিযোগী বানিয়ে বেসরকারি খাতের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করছে সরকার ৷ টিকে প্রশ্নটি ব্যাপক এবং বিশাল ৷ আমরা এখনো লক্ষ্য অনুযায়ী সঠিক পথেই আছি ৷ কিন্তু আন্তর্জাতিক রুটে ভালো করতে না পারলে লাভ করা কঠিন ৷
স. বি.: এ খাতটির সম্ভাবনা ও সংকটের জায়গাটা যদি চিহ্নিত করতেন ৷
মফিজুর রহমান: এই শিল্পের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, খাত-সংশ্লিষ্টদের দুবর্লতা ৷ এটা যেমন বেসরকারি খাতের জন্য সত্য, পাবলিক খাতের জন্য সত্য ৷ সঠিক নীতির অভাব, বিমানের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করাই সংকট ৷ এরপর এখাতে বিপুল পরিমাণ সম্ভাবনা আছে ৷ কেননা আকাশপথে যাতায়াতের জন্য যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে ৷ কিন্তু বিমান যেখানে ফ্রি যাত্রী পরিবহন করছে, সেখানে আমাদের ভাড়া কয়েক হাজার টাকা ৷ ফলে, এখানেই একটা অসমতা আছে৷ এ সত্ত্বেও এ খাতটিতে যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে ৷ এটাকে ঠিকমতো কাজে লাগানোর নীতি-দুবর্লতাগুলো দূর করতে পারলেই সাফল্য আসা শুরু করবে ৷
স. বি.: এটি একটি বিনিয়োগ ঘন ব্যবসা ৷ নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ আছে এ খাতে? এখানে বিনিয়োগের তুলনায় রিটার্ন কম ৷
মফিজুর রহমান: একটি প্রতিষ্ঠান কবে ব্রেক ইভেনে যেতে চায়, সেটা তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনার গোপন কৌশল৷ কেউ ২ বছর, কেউ ৫ বছর টার্গেট করে৷ সব ঠিকঠাকমতো চললে অবশ্যই সময়মতো ব্রেক ইভেনে পৌছানো সম্ভব ৷ যেকোনো খাতেই বিনিয়োগের সুযোগ আছে৷ এভিয়েশন উঠতি তারকা, ফলে এখানে বিনিয়োগের সুযোগ আরও বেশি ৷ তা ছাড়া ব্যবসায় যে কেউ আসতে পারে, কেউ মানা করবে না ৷ মূল ব্যাপার হলো স্থায়িত্ব ৷ ব্যবসা টিকে থাকল কি না, দিন শেষে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ৷ শুনেছি বিমানও অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চালু করবে ৷ ইতোমধ্যেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে ৷ এটাই হলো সময় প্রত্যেককে পেশাদারি উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার৷ তা না হলে টিকতে পারবে না ৷
স. বি.: আপনার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ৷ তারা এ মাসেই আন্তর্জাতিক রুটে যাচ্ছে ৷ আপনাদের পরিকল্পনা কী?
মফিজুর রহমান: রিজেন্ট এয়ারের জন্য শুভ কামনা ৷ অনেক দিন অপেক্ষা করার পর তারা শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত ক্ষণে এসে পৌঁছেছে ৷ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আমরাও আন্তর্জাতিক রুটে যাওয়ার পরিকল্পনা নিচ্ছি ৷ কোন রুটে আমরা যেতে চাই, তার চেয়ে বড় কথা, সিভিল এভিয়েশন কোন রুটের অনুমতি দেবে, সেটাই আসল বাস্তবতা ৷ কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে ৷ আপনাদের মনে রাখা উচিত, নভোএয়ার ব্যবসা করতে এসেছে, হারিয়ে যেতে নয় ৷
স. বি.: যাত্রী অনেকেই আকাশপথে যেতে চায় ৷ কিন্তু টিকিটের মূল্য অনেক বেশি ৷ ফলে, ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও এই যাত্রীরা সেবাটা নিতে পারছে না ৷
মফিজুর রহমান: আমরা প্রিমিয়াম এয়ারক্রাফট দিচ্ছি, প্রিমিয়াম সেবা দিচ্ছে; ফলে, প্রাইম সেগমেন্টের জন্য ইচ্ছে করেই দাম আমরা কিছুটা বাড়িয়ে রেখেছি ৷ বাংলাদেশে এখন যতগুলো প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট অপারেট করছে, সম্ভবত এটা যথেষ্ট ৷ এখন পর্যন্ত ফ্লাইটগুলোতে ১৫ শতাংশ আসন পড়ে থাকে ৷ সবমিলিয়ে ২০ শতাংশের মতো ৷ এই যাত্রী পরিবহনের ক্ষমতা অর্জন করা পযর্ন্ত নতুন কোনো কোম্পানি দরকার আছে বলে মনে হয় না ৷ তবে ভবিষ্যতে হয়তো নতুন কোনো এয়ারলাইনসকে অনুমতি দেওয়া হতে পারে ৷
স. বি.: ব্যবসা করতে হলে দক্ষতা বাড়াতে হবে ৷ স্পর্শকাতর এই ব্যবসায় আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত না হলে ব্যবসা করবেন কীভাবে?
মফিজুর রহমান: পুরো বিষয়টি ক্যাপাসিটি ও ক্যাপাবিলিটির ৷ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারগুলো অনেক এগিয়ে আছে ৷ এই জায়গাটাতে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে হবে ৷ এটা আমাদের কাছে নতুন জায়গা ৷ তবে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ফ্লাইট পরিচালনার মধ্য দিয়ে সম্মানজনক অবস্থায় আসতে ৫ বছর সময় লাগবে বলে আমরা মনে করি ৷ সে অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করছি আমরা ৷
স. বি.: আপনাকে ধন্যবাদ
মফিজুর রহমান: আপনাকেও ধন্যবাদ


আপনাদের মতামত দিন:


সকল খবর
চলমান প্রচ্ছদ