প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের চেয়ে দুদক আইনের সংস্কার জরুরি : গোলাম রহমান | সময় বিচিত্রা
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের চেয়ে দুদক আইনের সংস্কার জরুরি : গোলাম রহমান
ইয়াসমিন আরা
ex1

সময় বিচিত্রা: দুর্নীতি দমনে দুদকের ব্যর্থতা স্পষ্ট। এ জন্য কি দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি বলে মনে করেন আপনি?

গোলাম রহমান : দুর্নীতি দমনে দুদক একেবারেই ব্যর্থ হয়েছে, এ কথা বলা যাবে না। দুদকের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ কারণে দুদক চাইলেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না। বা অনেক সময় স্বীকৃত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দুদককে নীরব ভূমিকা নিতে হয়েছে। এর কারণ, দুদক আইনের সীমাবদ্ধতা। এ কারণে হয়তো দুদক জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি সংস্থাটি। প্রতিষ্ঠানটি এখন মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। এর জন্য দায়ী সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের আমলারা। আমলাদের একটি অংশ স্বাধীনভাবে দুদককে কাজ করতে দিচ্ছে না। আইন সংশোধন করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আরও শক্তিশালী করা দরকার। সরকার যদি আসলেই দুদককে শক্তিশালী করতে চায়, তাহলে আইন সংশোধন করে কমিশনকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া দরকার।

 

সময় বিচিত্রা: সরকার-ঘোষিত বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় আবাসনসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দিচ্ছে। এ ব্যাপারে দুদকের অবস্থান কী হবে?

গো. র. : অপ্রদর্শিত আয় জরিমানা দিয়ে কে সাদা করল, তা নিয়ে দুদকের কোনো মাথাব্যথা নেই। দুদক কোনো বিনিয়োগকারীর সম্পদের ব্যাপারে নিজে থেকেই অনুসন্ধানে নামবে না। তবে কারও বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেলে দুদক আইনের আওতায় বিষয়টি অনুসন্ধান করতে পারবে। দুদক নিজে থেকে কারও সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করতে পারে না। কোনো সরকারি কর্মকর্তার আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসামঞ্জস্যতা দেখা গেলে আইনের মধ্যে থেকে দুদক ওই কর্মকর্তার সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করতে পারে। তবে সে জন্যও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রয়োজন হবে। অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ যেকোনো খাতে বিনিয়োগ করা হতে পারে। এ বিষয়ে দুদকের কিছু করার নেই। তবে কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি করে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটা ভিন্ন কথা। কেউ যদি ডাকাতি করে বা ছিনতাই করে সম্পদ অর্জন করে, তবে ডাকতি বা ছিনতাই আইনে তাদের সাজা হতে পারে। এ জন্য দুদকের কিছু করার থাকবে না।

 

সময় বিচিত্রা: শেয়ারবাজারে ঘটে যাওয়া কারসাজি নিয়ে দুদকের ভূমিকা কী হতে পারে?

গো. র. : শেয়ারবাজারে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের ভার দুদকের নয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তারাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সরকারের নির্দেশে তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারি শেয়ার ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান আইসিবি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির দুজন কর্মকর্তার সম্পদের হিসাব চেয়েছিল দুদক। তারা তাদের সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা যাচাই-বাছাই করে দেখছেন। এ ছাড়া আইনের কিছু বাধ্যবাধকতার কারণে দুদক চাইলে শেয়ারবাজারের কারসাজির বিরুদ্ধে  নিজে থেকে ব্যবস্থা নিতে পারে না। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে দুদক অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

 

সময় বিচিত্রা: দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে? এ ক্ষেত্রে দুদক কী ভূমিকা রাখছে?

গো. র. : রাজনীতিকে দুর্নীতিমুক্ত করা গেলেই দেশে দুর্নীতি কমে আসবে। দুর্নীতির প্রধান উৎস হলো ক্ষমতা। আর আমাদের দেশে ক্ষমতার প্রধান উৎস রাজনীতি। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পেছনে দুর্নীতির বিষয়টি কাজ করেছে। দুর্নীতি রোধ করতে হলে রাজনীতিবিদদের জবাবদিহির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতি অনেকাংশে হ্রাস পাবে। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যতই ক্ষমতাধর আর প্রভাবশালী হোন না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে সর্বোর্চ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করবে দুদক। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দুদকের অবস্থান কঠোর। দেশের বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই দুদক কোনো উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারছে না।

সময় বিচিত্রা: দুদকের অনেক কর্মকর্তাই দুর্নীতিবাজ। এ বিষয়ে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন? দুর্নীতি দমনে কাজ করতে গিয়ে কোনো বাধা পেয়েছেন কি না?

গো. র. : দুদকের কোনো কর্মকর্তাই দুর্নীতিবাজ নয়। আর যদি কোনো কর্মকর্তা দুর্নীতির সাথে জড়িত থেকে থাকে আর তা প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে  আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুদক দুর্নীতির প্রসঙ্গে কোনোভাবে ছাড় দেবে না।

দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পযর্ন্ত দুর্নীতি দমনে কাজ করতে গিয়ে কোনো ধরনের বাধার মুখোমুখি হইনি। বাইরে হয়তো অনেক কথা প্রচারিত হয়, কিন্তু দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমি মনে করি, দুদক কর্মকর্তারা তাদের সাধ্যর মধ্যে দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে কাজ করছেন। এ জন্য সরকার থেকে কোনো বাধা আসেনি।

 

সময় বিচিত্রা: দুর্নীতি দমনে দুদকের ব্যর্থতা স্পষ্ট। এ জন্য কি দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি বলে মনে করেন আপনি?

গোলাম রহমান : দুর্নীতি দমনে দুদক একেবারেই ব্যর্থ হয়েছে, এ কথা বলা যাবে না। দুদকের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ কারণে দুদক চাইলেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না। বা অনেক সময় স্বীকৃত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দুদককে নীরব ভূমিকা নিতে হয়েছে। এর কারণ, দুদক আইনের সীমাবদ্ধতা। এ কারণে হয়তো দুদক জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে  কাযর্কর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি সংস্থাটি। প্রতিষ্ঠানটি এখন মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। এর জন্য দায়ী সরকারের বিভিন্ন পযার্য়ের আমলারা। আমলাদের একটি অংশ স্বাধীনভাবে দুদককে কাজ করতে দিচ্ছে না। আইন সংশোধন করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আরও শক্তিশালী করা দরকার। সরকার যদি আসলেই দুদককে শক্তিশালী করতে চায়, তাহলে আইন সংশোধন করে কমিশনকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া দরকার।

 

সময় বিচিত্রা: সরকার-ঘোষিত বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় আবাসনসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দিচ্ছে। এ ব্যাপারে দুদকের অবস্থান কী হবে?

গো. র. : অপ্রদর্শিত আয় জরিমানা দিয়ে কে সাদা করল, তা নিয়ে দুদকের কোনো মাথাব্যথা নেই। দুদক কোনো বিনিয়োগকারীর সম্পদের ব্যাপারে নিজে থেকেই অনুসন্ধানে নামবে না। তবে কারও বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেলে দুদক আইনের আওতায় বিষয়টি অনুসন্ধান করতে পারবে। দুদক নিজে থেকে কারও সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করতে পারে না। কোনো সরকারি কর্মকর্তার আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসামঞ্জস্যতা দেখা গেলে আইনের মধ্যে থেকে দুদক ওই কর্মকর্তার সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করতে পারে। তবে সে জন্যও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রয়োজন হবে। অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ যেকোনো খাতে বিনিয়োগ করা হতে পারে। এ বিষয়ে দুদকের কিছু করার নেই। তবে কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি করে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটা ভিন্ন কথা। কেউ যদি ডাকাতি করে বা ছিনতাই করে সম্পদ অর্জন করে, তবে ডাকতি বা ছিনতাই আইনে তাদের সাজা হতে পারে। এ জন্য দুদকের কিছু করার থাকবে না।

সময় বিচিত্রা: শেয়ারবাজারে ঘটে যাওয়া কারসাজি নিয়ে দুদকের ভূমিকা কী হতে পারে?

গো. র. : শেয়ারবাজারে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের ভার দুদকের নয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তারাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সরকারের নির্দেশে তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারি শেয়ার ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান আইসিবি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির দুজন কর্মকর্তার সম্পদের হিসাব চেয়েছিল দুদক। তারা তাদের সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা যাচাই-বাছাই করে দেখছেন। এ ছাড়া আইনের কিছু বাধ্যবাধকতার কারণে দুদক চাইলে শেয়ারবাজারের কারসাজির বিরুদ্ধে নিজে থেকে ব্যবস্থা নিতে পারে না। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে দুদক অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

সময় বিচিত্রা: দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে? এ ক্ষেত্রে দুদক কী ভূমিকা রাখছে?

গো. র. : রাজনীতিকে দুর্নীতিমুক্ত করা গেলেই দেশে দুর্নীতি কমে আসবে। দুর্নীতির প্রধান উৎস হলো ক্ষমতা। আর আমাদের দেশে ক্ষমতার প্রধান উৎস রাজনীতি। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পেছনে দুর্নীতির বিষয়টি কাজ করেছে। দুর্নীতি রোধ করতে হলে রাজনীতিবিদদের জবাবদিহির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতি অনেকাংশে হ্রাস পাবে। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যতই ক্ষমতাধর আর প্রভাবশালী হোন না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে  সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করবে দুদক। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে  দুদকের অবস্থান কঠোর। দেশের বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই দুদক কোনো উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারছে না।

সময় বিচিত্রা: দুদকের অনেক কর্মকর্তাই দুর্নীতিবাজ। এ বিষয়ে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন? দুর্নীতি দমনে কাজ করতে গিয়ে কোনো বাধা পেয়েছেন কি না?

গো. র. : দুদকের কোনো কর্মকর্তাই দুর্নীতিবাজ নয়। আর যদি কোনো কর্মকর্তা দুর্নীতির সাথে জড়িত থেকে থাকে আর তা প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুদক দুর্নীতির প্রসঙ্গে কোনোভাবে ছাড় দেবে না।

দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পযর্ন্ত দুর্নীতি দমনে কাজ করতে গিয়ে কোনো ধরনের বাধার মুখোমুখি হইনি। বাইরে হয়তো অনেক কথা প্রচারিত হয়, কিন্তু দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমি মনে করি, দুদক কর্মকর্তারা তাদের সাধ্যর মধ্যে দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে কাজ করছেন। এ জন্য সরকার থেকে কোনো বাধা আসেনি।


আপনাদের মতামত দিন:


সকল খবর
চলমান প্রচ্ছদ