অস্থির সময়ে স্থির বিশ্বাসে অবিচল | সময় বিচিত্রা
অস্থির সময়ে স্থির বিশ্বাসে অবিচল
সাইফুল হাসান

দ্বিতীয় বছরে পা রাখল সময় বিচিত্রা। আজ ও আগামীর মাঝে সেতুবন্ধনের বার্তা নিয়ে গত বছরের ১৫ জুন পথচলার শুরু। গন্তব্য জানা ছিল, কিন্তু পথ চেনা ছিল না। আত্মবিশ্বাস, পাঠকের প্রতি দায়বদ্ধতা আর ভালোবাসাই ছিল পাক্ষিক এই কাগজটির একমাত্র অবলম্বন। সময়ের হিসাবে এক বছর পত্রিকার জন্য খুব কম সময়। তবে ঘণ্টা-দিনের বিচারে কিন্তু একেবারে কম নয়। তাই পিছনে ফেলে আসা সময়টাতে একটু চোখ বুলিয়ে নিতে চাই। আগামীর অলিগলি-বাঁক ভালো করে চিনতে, বুঝতে এবং ভবিষ্যতের গর্ভে লুকানো সম্ভাবনাগুলো আবিষ্কারে অতীতের আয়নায় গভীর দৃষ্টিপাত জরুরি।

১৫ জুন ২০১২, এক ঝাঁক তরুণ অতিথি লেখক আর রিপোর্টার মিলে সময় বিচিত্রাকে পাঠকের সামনে আনেন। নেতৃত্বে সম্পাদক রেফায়েত উল্লাহ ও তরুণ সাংবাদিক এ কে আজাদ মুন্না। দৈনন্দিন ঘটনার বাইরে গিয়ে, ঘটনার গভীরে ঢুকে সময় এবং সংকট বিশ্লেষণ করা, দূরের সম্ভাবনাকে কাছে থেকে দেখার তীক্ষ্ন দৃষ্টি থাকতে হয় সাপ্তাহিক-পাক্ষিক পত্রিকার। কাজটি অনেক কঠিন এবং ধারণার চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। ইকোনমিস্ট, টাইমস, নিউজ উইক, ইন্ডিয়া টুডে, কসমোপলিটন, সায়েন্টিস্ট, হিমাল, ফরচুন, ফোর্বসের মতো কাগজগুলো এ কারণেই বিশ্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী এবং পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত।

বিশ্ব তো দূরের কথা, সময় বিচিত্রা দেশের মধ্যেও কোনোভাবেই প্রভাবশালী কাগজ নয়। তেমন কোনো বৈপ্লবিক কাজও এই কাগজ করেনি। কিন্তু সমাজকে পথ দেখানোর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার সব গুণাবলি এই পাক্ষিকের মধ্যে আছে। এটাই কাগজটির সবচেয়ে শক্তির জায়গা। দৈনিক কাগজগুলোর দাপটে যেখানে প্রতিষ্ঠিত সাপ্তাহিক কাগজগুলোই ধুঁকছে, সেখানে পাক্ষিক কাগজ প্রকাশের দুঃসাহস দেখানোর জন্য পুরো সময় বিচিত্রা পরিবার অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।

 

শুরু থেকে এখন পযর্ন্ত প্রতিটি সংখ্যায় সমাজ এবং রাষ্ট্রকে খোলস থেকে বের করে আনার চেষ্টা করেছে সময় বিচিত্রা। সংঘাতময় রাজনীতি, দমবন্ধ অর্থনীতি, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বৈষম্য, পীড়ন, হত্যা, রাহাজানি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি, ভূমিকম্প, কূটনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টির চেষ্টা, দুর্বল গণমাধ্যম, দ্বিধাবিভক্ত তারুণ্য, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশসহ প্রায় প্রতিটি বিষয়কেই নতুন আঙ্গিক এবং বিশ্লেষণে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে যথাসাধ্য চেষ্টা হয়েছে। এতে সময় বিচিত্রা পরিবার কতটা সফল, সে বিবেচনা পাঠকের।

প্রচার-প্রচারণায় পিছিয়ে থাকলেও, অল্প সময়েই পাঠক সময় বিচিত্রাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন। যার প্রমাণ প্রতি সপ্তাহে পাঠকদের শত শত ই-মেইল, চিঠি। রাষ্ট্র-সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, ঢাকাস্থ বিদেশি দূতাবাস, ব্যবসায়ী, গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ বিশিষ্ট অনেক মানুষের ভালোবাসায় সময় বিচিত্রা আজ অনেকটা পূর্ণ। পাঠকদের এই ভালোবাসা সময় বিচিত্রাকে আরও বেশি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার প্রতি দায়বদ্ধ করেছে। এই সময়ে পাশে থাকার জন্য সময় বিচিত্রার পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, সমালোচক, বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে কৃতজ্ঞ।

সময় বিচিত্রা প্রকাশের কিছুদিন আগেই সাগর-রুনি সাংবাদিক দম্পত্তি খুন হন। তার কয়েক মাস পর গুম হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতা ইলিয়াস আলী। দেশজুড়ে নৈরাজ্য, ধ্বংসাত্মক রাজনীতি, শেয়ারবাজারের দীর্ঘশ্বাস, পোশাক কারখানায় আগুন, ভবনধস, হাজারো নিরপরাধ শ্রমিকের মৃত্যু, গ্রামীণব্যাংক নিয়ে টানাপড়েন, ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট, সমুদ্র বিজয়, ভারতে সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জনগণের দ্বিধা-দোলাচল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস, শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে প্রায় একদলীয় শাসনের মতো নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এসব ঘটনায় কষ্ট, যন্ত্রণা, প্রবঞ্চনা, দলীয়করণের সুখ থাকলেও, সময় বিচিত্রা সব সময় অন্য এক বাংলাদেশকে খুঁজে ফিরেছে। সেই চেষ্টা এখনো অব্যাহত আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে আশা করি।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। বিশ্ব যখন আরও ছোট হয়ে আসছে, রাজনৈতিক-সামাজিক বিভাজনে তখন এখানে নাগরিকে নাগরিকে দূরত্ব বাড়ছে। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে অবিশ্বাস-সন্দেহ পর্বতসম। স্থবির দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ। যোগ-বিয়োগের হিসাবে মূল্যস্ফীতি এক অঙ্কে থাকলেও সাধারণ বা নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জীবন ধারণে নাভিশ্বাস উঠছে। বিশ্ব শ্রমবাজার প্রতিনিয়ত সংকুচিত হচ্ছে, তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ড এবং রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় পোশাকখাত কঠিনতম চ্যালেঞ্জে, সাধারণ ব্যবসা-বাণিজ্যও শ্লথ।

অক্টোবরে সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা এলেও জাতীয় নিবার্চন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না, বরং বাড়ছে। দুবর্ল ও ভুল পথে পরিচালিত বিরোধী দলের কারণে সরকার মহাপরাক্রমশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। সব মিলিয়ে সময়টাই বাংলাদেশের প্রতিকূলে। এ নিয়ে জনগণ, বন্ধুরাষ্ট্রসহ সব মহলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হলেও প্রধান দুই রাজনৈতিক দল শিশুদের মতো জেদ ধরে একটি বৃত্তের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। ফলে প্রতি মুহূর্তে রাজনীতিবিদদের দেশপ্রেম নিয়ে জনগণের সন্দেহ বিশ্বাসে পরিণত হচ্ছে। যার পরিণতি দুবর্ল গণতন্ত্র, পরিবারের দুর্নীতি, অনিশ্চয়তা এবং দেশের সম্ভাবনাগুলোকে কফিনে পুরে পেরেক ঠোকা। পরম নিষ্ঠার সঙ্গে সরকার এবং বিরোধী দল দেশকে এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। যদিও স্বাধীন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, ধর্মনিরপেক্ষতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সমব্যবস্থার একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিত্তি প্রতিষ্ঠা।

বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যাস স্যাকস, জেডি মরগ্যান, মার্কেট অ্যান্ড রিসার্চ, বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশকে নেঙ্ট ফ্রন্টিয়ার্স হিসেবে মেনে নিয়েছে। বিশ্বমোড়ল আমেরিকান রাষ্ট্রদূত প্রায় প্রতিটি বক্তৃতা-বিবৃতিতে বাংলাদেশকে এশিয়ার নেঙ্ট টাইগার বলে সনদ দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী সমাজ, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই সম্ভাবনায় বিশ্বাস করলেও কোথায় যেন আটকে আছে সোনার বাংলা। যেখানে প্রতি মুহূর্তে সামনে এগোনোর কথা, সেখানে দেশ নিয়ে জনগণের মধ্যে হতাশা দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ, সুশীল সমাজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী-সবাই এই সময়কে মুমূর্ষু, অস্থির এবং অশোভনীয় বলে আখ্যায়িত করছেন। সময় বিচিত্রাও মনে করে, এই সময় অস্থিরতা, হতাশা ও বেদনার।

যদিও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটাই শেষ লাইন নয়। বরং ভয়াবহ প্রতিকূলতার মধ্যেও বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাসটাই বাংলাদেশ। হতাশা-বেদনার গল্প নয়, বরং সময় বিচিত্রা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর ছবিটাই বারবার তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। যে ছবি সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসকে একটি ফ্রেমে ধরে রাখে। যে ছবি স্বপ্ন দেখায়, স্বপ্ন জাগায়। গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে প্রবল করে। দুঃশাসনকে ছুড়ে ফেলে সুশাসনকে আঁকড় ধরে। দুর্নীতিকে ঘৃণা করতে শেখায়। নাগরিককে সুনাগরিক হতে শেখায়। সবচেয়ে বড় কথা সত্যকে সত্য বলে মেনে নেওয়ার নৈতিক ইচ্ছাকে প্রবল করে।

সময় বিচিত্রা বিশ্বাস করে, বর্তমান বিশ্ব বর্তমান যে বাংলাদেশকে দেখছে সেটিই শেষ কথা নয়। বরং দৃষ্টির আড়ালে কোটি কোটি তরুণ-তরুণীর নানা উদ্যোগ স্বপ্নবিলাসী হতে সাহস জোগায়। অবহেলা অনাদরে থাকা কৃষকের সাফল্য, প্রবাসী শ্রমিকের দেশপ্রেম, সেলাই দিদিমণিদের বঞ্চনা-শোষণের দীর্ঘশ্বাসে তৈরি বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড, একজন মুসা-ওয়াজফিয়ার হিমালয় জয়, হিমালয়কে ভালোবেসে মৃত্যুকে আলিঙ্গনের সাহস দেখানো সজল, ধ্বংসস্তূপের নিচে অবিশ্বাস্য জীবনীশক্তি নিয়ে ১৭ দিন টিকে থাকা রেশমা, কিংবা ক্রিকেট র্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা সাকিব আল হাসানরাই বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখায়।

নারীশিক্ষায় দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশের জন্য বাংলাদেশ অনুকরণীয়। নারীর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রজনন, শিশু ও মাতৃমৃত্যু কমিয়ে আনায় অবিশ্বাস্য সাফল্য এসেছে। নারীর ক্ষমতায়ন আশানুরূপ না হলেও সরকারপ্রধান-বিরোধীদলীয় নেতা এবং স্পিকার একজন নারী। পাশাপাশি সরকারের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহায়তা, বেসরকারি উদ্যোগ এবং নিজেদের চেষ্টায় গ্রামীণ জীবনেও এসেছে বিপুল পরিবর্তন। রাজনৈতিক কাঠামোয় বিশ্বাসের পারদ যেখানে নিম্নমুখী, সামাজিক কাঠামোয় পরস্পরকে আঁকড়ে থাকার সংস্কৃতি এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী। পুঁজিবাদ ও লুটেরা শ্রেণীর বিকাশ, গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব, দুবৃর্ত্তায়ন ও লোভের আগুনে সামাজিক দ্বন্দ্বগুলো দিন দিন প্রকট হয়ে উঠলেও নৈতিকতা এবং মানবিকতা এখনো এ দেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বিষয়।

বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বে একটি পত্রিকা বের করার মতো চ্যালেঞ্জ এবং কষ্টের কাজ দ্বিতীয়টি আর নেই। দিন দিন কাগজের দাম অসহনীয় পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, শ্রমের মূল্য বাড়ছে, ছাপাখরচ বাড়ছে। সেই তুলনায় বাড়েনি বিজ্ঞাপনের মূল্য। অর্থনীতি বড় হলেও বামন হয়ে আছে বিজ্ঞাপনের বাজার। বরং দিন দিন বিজ্ঞাপনের রেট কমিয়ে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এমন পরিস্থিতিতে ঝকঝকে একটি পত্রিকার বের করা যে কত কঠিন তা শুধু শিল্পসংশ্লিষ্টরাই ভালো বোঝেন। পথ বন্ধুর জেনেও সময় বিচিত্রা দমে যায়নি। বরং প্রতিটি সংখ্যাকে আগের সংখ্যার চেয়ে আরও সুন্দর, আকর্ষণীয় ও বৈচিত্র্যময় আঙ্গিকে সাজানোর চেষ্টা হয়েছে। বিজ্ঞাপন পেতে অপেশাদার প্রতিযোগিতার পেছনে না ছুটে পত্রিকাকে পাঠকপ্রিয় করার চেষ্টা ছিল লক্ষণীয়।

বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, ‘বসে খেলে রাজকোষও নিঃশেষ হয়ে যায়।’ প্রবাদটিতে অর্থনৈতিক বাস্তবতার দিকটি পরাবাস্তব হয়ে ধরা দেয়। সময় বিচিত্রা বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ, মুক্তিযুদ্ধ, নিজস্ব সংস্কৃতি ও শক্তি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা দিয়ে পরাবাস্তবতাকে মোকাবিলা করেছে। কিন্তু সব লড়াইয়ের শেষ আছে। সব সংকট শেষ পযর্ন্ত সুন্দর কিছুরই ইঙ্গিত করে। এই বিশ্বাস নিয়েই সময় বিচিত্রা নতুন বছরে যাত্রা শুরু করল। ঝড়ের পূবার্ভাস থাকলেও কালো মেঘ সব সময় ঝড় হয়ে আঘাত হানে না। তেমনি রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও তা স্থায়ী নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা কেটে যাবে। অস্থির এই সময়ে দাঁড়িয়ে সময় বিচিত্রা বরং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও শক্তিতে, যা লুকিয়ে আছে এ দেশের মানুষ আর মাটিতে।


আপনাদের মতামত দিন:


সকল খবর
চলমান প্রচ্ছদ