আমাদের বিজয় | সময় বিচিত্রা
আমাদের বিজয়
সময় বিচিত্রা

একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতার স্পৃহায় জেগে ওঠা বাঙালিকে স্তব্ধ করতে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যায় মেতে ওঠে ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তাসেই গণহত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে আমরা পাই বিজয়ের সেই মাহেন্দ্রক্ষণঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজির নেতৃত্বে আত্মসমর্পণ করে ৯১ হাজার ৫৪৯ জন হানাদার সেনাআর অবিস্মরণীয় সেই মুহূর্তেই বিশ্ববাসীকে অবাক করে পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামের স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রবাঙালি জাতি পায় লাল-সবুজের একটি জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত এবং মানচিত্ররক্তাক্ত পথ ধরে মুক্তিযুদ্ধের এই বিজয় অর্জন ছিল ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতি

বাঙালির এই স্বাধীনতাসংগ্রামের বিজয় অর্জনের ইতিহাস কেবল ১৯৭১ সালেই সীমাবদ্ধ নয়১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের এক বছরের মধ্যেই রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে পাঞ্জাবি শাসকগোষ্ঠী আঘাত করে আমাদের মাতৃভাষা বাংলার ওপরশুরু হয়ে যায় শোষণ, বঞ্চনা আর বৈষম্যের করুণ ইতিহাসপাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সেই শোষণ থেকে মুক্তি পেতে বিক্ষুব্ধ বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রথম স্ফুরণ ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনএই চেতনার ধারাবাহিক সংগ্রামের অংশ হিসেবে শেখ মুজিব উত্থাপিত ১৯৬৬ সালে ৬ দফা তথা স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন, ১৯৬৯-এ গণতন্ত্র ও ন্যায্য অধিকারের জন্য গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭০-এ নির্বাচনী বিজয়ের মাধ্যমে বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণের আকাক্সক্ষার বিস্ফোরণ ঘটেকিন্তু গণতান্ত্রিক সে বিজয় পাকিস্তানি সামরিক শাসকচক্র মানতে পারেনি

ফলে ১ মার্চের অসহযোগ আন্দোলনের পথ ধরে ঘনিয়ে আসে ৭ মার্চ১৯৭১-এর ওই দিন রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ঐতিহাসিক ভাষণে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত হয় স্বাধীনতার অমোঘ বাণী- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম

বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে মূলত সেদিন থেকেই গোটা জাতির মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল

৯ মাস ধরে চলা সেই মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যা, নারী ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ আর লুটতরাজের কলঙ্কিত অধ্যায়ের বিপরীতে রচিত হয়েছিল ইতিহাসের আরেকটি মহান অধ্যায়সেই অধ্যায়ে ছিল মুক্তিকামী বাঙালির অসম সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের বীরত্বগাথা

প্রতিবছরের মতো এ মাসেও বিজয়োল্লাসে ভাসবে দেশ, আনন্দে উদ্বেলিত হবে গোটা জাতিরাজধানী ঢাকা থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত উদ্যাপিত হবে বিজয়ের এ মাসটিউৎসবের সমারোহে জাতি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতাসহ মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদকেসেই সাথে আমরা এগিয়ে যেতে চাই সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়েযে দেশে থাকবে না কোনো বিভেদ, থাকবে না কোনো খুনোখুনি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজিএকদিন বিশ্বের বুকে মডেল হিসেবে উপস্থাপিত হবে বাংলাদেশআসুন বিজয়ের এই বছরে আমরা অঙ্গীকার করি, আর নয় হানাহানি, সবাই মিলে দেশটা গড়ি

 


আপনাদের মতামত দিন:


সকল খবর
চলমান প্রচ্ছদ