ঋতু পরিবর্তন ও করণীয়
সময় বিচিত্রা
6

গরমকে বিদায় জানিয়ে দরজায় কড়া নাড়ছে শীতকথায় আছে, ‘চোখের পানি মুছে দেওয়ার অনেক লোক হয়তো পাওয়া যাবে, নাকের পানি মুছে দেওয়ার কাউকে পাওয়া যাবে নাতাই সর্দি-কাশি থেকে সাবধানঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মিলছে শীতের আভাসএই গরম তো এই ঠান্ডা আবহাওয়ার এমন বৈপরীত্যে বাড়ছে রোগব্যাধির প্রকোপওদেশজুড়ে ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে জ্বর ও সর্দি-কাশিনানা বয়সী মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, সিপিওডি ও ব্রংকোলাইটিসেদেখা দিচ্ছে টাইফয়েড, পেটের পীড়া, আমাশয়, প্যারা টাইফয়েড কিংবা ডেঙ্গু জ্বর

ঋতুভিত্তিক এসব রোগের প্রকোপ প্রায় প্রতিবছরই শীতের শুরুতে দেখা যায়চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও ভিড় বাড়ছে এসব রোগীররাস্তার ধুলোবালি, নোংরা আবর্জনা প্রকোপের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেসবচেয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে শিশু, নারী ও বয়স্কদেরবিশেষজ্ঞদের মতে, শীত জেঁকে না বসা পর্যন্ত রোগব্যাধির এ প্রকোপ থাকবেএ সময় সতর্ক না থাকলে সাধারণ ব্যাধিই জটিল হয়ে উঠতে পারেনভেম্বরের শেষের দিকে শীত নামলেও জেঁকে বসবে ডিসেম্বরের শেষের দিকে

মূলত জ্বর ও সর্দি-কাশিই বেশি দেখা দিচ্ছেনাক দিয়ে পানি পড়া বা সর্দি ও খুশখুশে কাশি দেখা দিলে কুসুম গরম পানি পান করা যেতে পারেএ সময় মধু, আদা, এলাচ বা তুলসীপাতার রস খেলে উপকার হবেতবে সর্দি বা কাশির মাত্রা যদি বেশি হয়, তাহলে কফ সিরাপ বা অ্যান্টি হিস্টামিন-জাতীয় ওষুধ সেবন করতে হবেজ্বর হলে সাধারণ প্যারাসিটামল ও খাবার স্যালাইনই যথেষ্টতবে জ্বর, সর্দি বা কাশি ৪/৫ দিনের মধ্যে ভালো না হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবেএ সময়টা গরম ও ঠান্ডার ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকাই উচিতঅবশ্যই ঘুমানোর আগে ফ্যান বা এসি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কিছুটা কমিয়ে দিতে হবেপায়ের কাছে বা শিয়রে পাতলা চাদর বা কাঁথা রাখতে হবে, যাতে ভোররাতে শীত অনুভূত হলে গায়ে মোড়ানো যায়বাসি খাবার খাওয়া যাবে নাপ্রচুর পানি বা তরল খাবার খেতে হবে

 

সাধারণ সর্দি-কাশির পাশাপাশি নিউমোনিয়া, ব্রংকোলাইটিস, অ্যাজমা এবং শ্বাসনালি ও ফুসফুসে প্রদাহের প্রকোপ বেশি

শিশুদের বিশেষ সতর্কতা

অন্যান্য বয়সের চেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরাইএ সময়টায় শিশুদের বেশি বাইরে না বের করানোই ভালোসর্দি-কাশির জন্য লেবুর শরবত খাওয়ানো যেতে পারেশ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে নসরোল নামে একধরনের নরমাল স্যালাইন দিয়ে শিশুদের নাক ধুয়ে পরিষ্কার রাখতে হবেএ সময় জ্বর ৪/৫ দিন স্থায়ী হবেজ্বরের মাত্রা ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারেকিছুতেই ঠান্ডা লাগানো যাবে নাখাবার গরম করে খেতে হবেশিশুদের উষ্ণ গরম পানিতে গোসল করাতে হবেবিশেষ করে, শীতের জন্য ব্যবহৃত পুরোনো পোশাক ট্রাংক বা সুটকেস থেকে বের করে টানা কয়েক ঘণ্টা রোদে রেখে তারপর ব্যবহার করতে হবেঠান্ডা-সর্দি খুবই ছোঁয়াচেতাই প্রত্যেকের নাকের পানি মোছার জন্য ব্যক্তিগত রুমাল বা কাপড় ব্যবহার করা উচিত


আপনাদের মতামত দিন:


সকল খবর
চলমান প্রচ্ছদ