১১ বছর পর টিকফায় সই | সময় বিচিত্রা
১১ বছর পর টিকফায় সই
সাইফুল হাসান
20

অবশেষে সই হয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম চুক্তি (টিকফা)গত ১৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) সম্মেলনকক্ষে সম্পাদিত হয় দীর্ঘ ১১ বছর ঝুলে থাকা এ চুক্তি

চুক্তি সইয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন ইউএসটিআর মাইকেল ফ্রোম্যান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত একরামুল কাদেরবাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্যসচিব মাহবুব আহমেদ ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ডেপুটি ইউএসটিআর উইন্ডি কাটলার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন

এ ব্যাপারে মাইকেল ফ্রোম্যান বলেন, টিকফা জিএসপিসহ বাণিজ্য ও  শ্রমের বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশকে নিয়মিত আলোচনায় সম্পৃক্ত করবে এবং বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকার ও শ্রম পরিস্থিতির উন্নতিতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে সমর্থ হবে

আন্তর্জাতিক বিষয় চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ সংবিধানের ১৪৫ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, ‘বিদেশের সাথে সম্পাদিত সব চুক্তি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা হবে এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করবার ব্যবস্থা করবেনতবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোনো চুক্তি কেবল সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবেএ বছরের ১৭ জুন মন্ত্রিসভা টিকফার অনুমোদন দেয়

চুক্তির খসড়ায় রয়েছে উভয় পক্ষের সেবা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা দূরীভূত করা, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতায় মেধাস্বত্ব আইন বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মূল নীতি মেনে উভয় দেশের শ্রম অধিকার বাস্তবায়ন এবং পরিবেশের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ করতে পরিবেশ আইন মেনে চলা

 

বাংলাদেশে রাজনীতি-অর্থনীতিতে এই মুহূর্তে খুবই আলোচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা আমেরিকাযদিও বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিপুল ক্ষমতাধর এই রাষ্ট্রের সব সময়ই আলাদা প্রভাব বা গুরুত্ব আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে অনুমান করা যায়তবে রাজনীতিকে ছাপিয়ে অর্থনৈতিক কারণে এবার বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে দেশটিপ্রথমত, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির সঙ্গে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টের (টিকফা) বা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম চুক্তিতে আবদ্ধ হলো বাংলাদেশদ্বিতীয়ত, গত জুন মাসের শেষের দিকে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যসুবিধা স্থগিত করেছে ওবামা প্রশাসনপ্রথম কারণে খুব বেশি আলোচনা না হলেও জিএসপি বাতিলের ঘটনায় দেশের রাজনীতিতে অনেক প্রভাব পড়েছেতবে জিএসপির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে টিকফা চুক্তিকেননা, এই চুক্তিতে বাংলাদেশকে রাজি করাতে আমেরিকাকে দীর্ঘ ১১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে

 

বিশ্লেষকদের মতে, দুটি বিষয়ই অর্থনৈতিক হলেও এগুলো ঘটেছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেঅর্থাৎ বাংলাদেশ সরকার অনেক দিন ঝুলিয়ে রাখার পর টিকফায় অনুমোদন করেছেঅন্যদিকে, বাংলাদেশের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশের উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় জিএসপি স্থগিত করেছে আমেরিকাএ দুটো সিদ্ধান্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি হয়নি, বরং লাভই হয়েছেকিন্তু ঘরে-বাইরে চাপে বা সমালোচনার মুখে পড়েছে বাংলাদেশএর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশের জন্য লাভবান হওয়ার সুযোগ একেবারেই চলে গেছেবরং সামনে অনেক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যেতে পারেটিকফার মধ্য দিয়ে দেশটির সঙ্গে আলোচনার সুযোগ এবং আরও নিবিড় বন্ধুত্বের সুযোগ এসেছেঅন্যদিকে জিএসপি স্থগিত করায় বাংলাদেশের পোশাক কারখানার শ্রমিকদের জীবন মানের উন্নয়নের সুযোগ এসেছেপেশাদারির সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারলে স্থগিতাদেশ তুলে নিতে বাধ্য হবে ওবামা প্রশাসনএতে দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশেরই লাভ হবেবিলিয়ন ডলার খাতটিতে অস্থিরতা কমে আসবে, কারখানাগুলো মানবিক হয়ে উঠবে, ফলে এ খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়বেযার সুফল শেষ পর্যন্ত পোশাক খাতই ভোগ করবে

 

এ বছরের ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিটি সই করার ক্ষেত্রে আইনি কোনো বাধা নেইএই চুক্তিতে বাংলাদেশকে রাজি করাতে এক দশকেরও বেশি সময় অপেক্ষা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনসংগত কারণেই একটি জোরালো প্রশ্ন সামনে আসে তা হলো, এই চুক্তির জন্য প্রায় এক যুগ কেন অপেক্ষা করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রবাংলাদেশের সঙ্গে এই চুক্তি কেন এত জরুরি আমেরিকার জন্য? শুধু বাংলাদেশের লাভের জন্য মার্কিন প্রশাসন টিকফার জন্য অপেক্ষা করেছে এমন যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়, বিশ্বাসযোগ্যও নয়পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা টিকফা সই করেছেএতে তাদের কী লাভ হয়েছে, বাণিজ্য বিনিয়োগ কতটা বেড়েছে তা পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ ছিল এবং আছেনাগরিক হিসেবে আমরা আশা করি, অনুমোদনের আগে মন্ত্রিসভা, বিশেষ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তা নিশ্চয়ই যাচাই করে দেখেছেএকই চুক্তির কারণে সব দেশের অভিজ্ঞতা যে এক হবে এমন নয়তবে দক্ষ ও পেশাদার কূটনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে এগোলে অবশ্যই এসব চুক্তি থেকে অর্জনের আছে অনেক কিছু

 

দ্বিপক্ষীয় এই চুক্তির খসড়ার গভীরে না গিয়েও সামগ্রিকভাবে বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক, সামরিক-কূটনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় নিলে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির আগে অন্তত শতবার ভাবা প্রয়োজনবাংলাদেশ যেহেতু দীর্ঘ সময় নিয়ে চুক্তিটি করেছে, সুতরাং ধরে নেওয়া যায়, বাংলাদেশ সরকার এ দিকও খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষার পরই সিদ্ধান্ত নিয়েছেবাণিজ্যমন্ত্রী দাবি করছেন, এটি একটি ভালো চুক্তি, এতে বাংলাদেশেরই লাভ হবেখসড়া অনুমোদনের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং পরে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. দীপু মনি সংসদে বলেছেন, এই চুক্তি সই হলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ সংকুচিত হবে

 

যদিও অনেকেই বিশ্বাস করেন, গত জুনের মধ্যেই জিএসপি বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগেই তাদের খুশি করতে কিছুটা তড়িঘড়ি করে টিকফার খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়পাশাপাশি নির্বাচন সামনে রেখে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী এই দেশকে চটাতে চায়নি সরকার, সেটিও একটি বড় কারণ হতে পারেতবে মন্ত্রিপরিষদ ও বাণিজ্যসচিবের দাবি, টিকফার সঙ্গে জিএসপির কোনো সম্পর্ক নেইএ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চাপও ছিল নাওই সময় বাণিজ্যসচিব সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমেরিকা নয়, বাংলাদেশই যতটা দ্রুত সম্ভব এই চুক্তি সই করতে চায়

 

বাম রাজনৈতিক দলগুলো মনে করে, এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আধিপত্য আরও বাড়বেএই চুক্তির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ মার্কিনদের বাইরে যেতে পারবে নাবিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় মেধাস্বত্ব বিষয়ে বাংলাদেশ যে ছাড় পাচ্ছে তা আর পাবে না

বাণিজ্যমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের গণমাধ্যমকে জানান, ‘টিকফা নিয়ে জনগণকে প্রথম থেকেই ভুল বার্তা দেওয়া হয়যারা এটা করেছেন, তারা না বুঝেই করেছেনএমনকি তারা জানতেনও না টিকফায় কী আছেসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক এবং কয়েকজন কর্মকর্তা ছাড়া আর কারও জানার সুযোগও ছিল নাআমি নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি, চুক্তিতে এমন কিছু নেই যা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী

 

এ নিয়ে দেশের দৈনিক প্রথম আলোতে একটি কলামও লেখেন বাণিজ্যমন্ত্রীএই কলামেও তিনি দাবি করেন, টিকফা চুক্তিতে বাংলাদেশই লাভবান হবেপত্রপত্রিকায় টিকফার যে খসড়া ছাপা হয়েছে, তাতে আসলেই বাংলাদেশবিরোধী কোনো শর্ত, ধারা বা উপধারা খুঁজে পাওয়া কঠিনতবে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ক্ষেত্রে ভালো ভালো কথার আড়ালে অনেক গর্ত থাকে তা শনাক্ত এবং এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল ও প্রজ্ঞা দেখাতে পারলেই কেবল টিকফা থেকে অর্জন বের করে আনা সম্ভব

 

বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত-কেউ টিকফা নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করেনিফলে ধরে নেওয়া যায়, প্রায় সব রাজনৈতিক দলই জনগণের জন্য রাজনীতি করলেও জনগণকে তারা উন্নয়নের অংশীদার নয়, তাদের উন্নয়নের পথে অসুর মনে করেটিকফায় যে জবাবদিহিমূলক বিনিয়োগ বা বাণিজ্যব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে তা গড়ে তুলতে হলে জনগণের সম্পৃক্ততা বাদে এর সাফল্য কীভাবে সম্ভব, তা প্রশ্নবোধকসরকারের এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সমালোচকেরা তিরে শাণ দিয়েছেন এবং দিচ্ছেনঅর্থাৎ সুযোগটা সমালোচকদের হাতে তুলে দিচ্ছে সরকার নিজেই

 

অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘টিকফা ভালো হলে এত লুকিয়ে করার দরকার কী ছিল? জনগণের উপকারের জন্য হলে সংসদে আলোচনা করে বুক ফুলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারত সরকারতা কেন করলেন না? বরং সরকারের কর্তাব্যক্তিদের বিবৃতি-বক্তৃতাতে এর ভেতরের চেহারাটা ফুটে উঠছেআমেরিকা শ্রম মানের উন্নয়নের কথা বলছে, সেটা আমরাও বলছিদুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানের পরামর্শ আমেরিকার কাছ থেকে নেওয়ার কী আছে, বাংলাদেশের প্রায় সবাই দুর্নীতির বিরুদ্ধেদুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশের জনগণ সব সময়ই সরবদুর্নীতি করে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা, ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা, জনগণ নয়এই চুক্তি যারা অনুমোদন দিচ্ছে, তারা ঠিক হলে দুর্নীতি হবেতাহলে টিকফা করার দরকার কী?’

টিকফা চুক্তিতে সরকারের সম্মতি আর মার্কিন প্রশাসনের জিএসপি স্থগিত নিয়ে আনু মুহাম্মদের ব্যাখ্যাটা বিবেচনায় নেওয়ার মতোঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র না থাকলেও অনেকেই এতে সংযোগ খুঁজেছেন

 

আনু মুহাম্মদ বলছিলেন, নির্বাচন সামনে মার্কিনদের খুশি করতে টিকফায় রাজি হলো সরকারকিন্তু লাভ কী হলো? আমেরিকা তাদের পরিকল্পনামতোই এগোচ্ছেতাদের কোনোভাবেই থামানো যাবে নাতারা যে জিএসপি-সুবিধা দেয়ই না বলা চলে, তা স্থগিত করে উল্টো বাংলাদেশকে চাপে ফেললবাংলাদেশ সীমাহীন অবহেলা আর দায়িত্বহীনতার সহিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের বিপদ ডেকে আনছেপাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও এই চুক্তি হয়েছেসেখানে দুর্নীতির কী কমেছে? ওই সব দেশের সঙ্গে বিনিয়োগ-বাণিজ্য কতটা বেড়েছে, সেদিকে তাকালেই বোঝা যায় টিকফা থেকে বাংলাদেশ নয়, মার্কিনরা লাভবান হবে

 

রাজনৈতিক এবং দর্শনগত কারণে এই অর্থনীতিবিদ মার্কিন বিরোধিতা করলেও তার কথায় যথেষ্ট যুক্তি আছেবিবেচনায় বা উপলব্ধিতে নেওয়ার মতো অনেক উপাদান আছেযদিও ক্ষমতার ভেতরে এবং বাইরে থাকা প্রভাবশালীরা এসব বিরোধিতাকে আমলে নেন না

 

টিকফা একটি কাঠামোগত বা সহযোগিতা ফোরামের চুক্তি, যার আওতায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করতে পারবে দুই দেশসাড়ে তিন পৃষ্ঠার খসড়ার প্রারম্ভিক প্রস্তাবনায় আটটি স্বীকৃতি, তিনটি সদিচ্ছা এবং সাতটি অনুচ্ছেদ রয়েছেস্বীকৃতির অংশে বলা হয়েছে, উভয় দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য একটি খোলামেলা ও দৃষ্টিগ্রাহ্য ভালো পরিবেশ তৈরি করবেসম্প্রসারিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ থেকে লাভবান হবে উভয় পক্ষ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পথে প্রতিবন্ধকতা এবং রক্ষণশীল উপাদানগুলো কমিয়ে আনা হবে

 

সদস্যদেশ হিসেবে উভয় পক্ষই জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের প্রতি আনুগত্য দেখাবেবিশেষ করে, কনভেনশনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ-সম্পর্কিত ধারাগুলো অনুসরণ হবে বাধ্যতামূলকদেশীয় ও বৈদেশিক-উভয় ক্ষেত্রেই বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করতে হবেযাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং তথ্য প্রযুক্তি খাত তথা অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়

 

স্বীকৃতির অংশে আরও বলা হয়েছে, উভয় পক্ষের সেবা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা দূর করা, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আওতায় মেধাস্বত্ব আইন বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মূলনীতি মেনে উভয় পক্ষ শ্রম অধিকার বাস্তবায়ন এবং পরিবেশের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ করতে পরিবেশ আইন মেনে চলা

 

স্বীকৃতি অংশের এই বিষয়গুলো নিয়ে নিশ্চয় দেশের মানুষ দ্বিমত করে নাদুর্নীতি দমন, বিনিয়োগ বাণিজ্যে বাধা দূর করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টাকে বরং জনগণ স্বাগতই জানাবেতার পরও এই চুক্তি করার আগে সংসদে আলোচনা করলে সমস্যা কোথায় ছিল? এই প্রশ্নের সরকার ছাড়া আর কারও জানা নেইএ কথা জোর দিয়ে বলা যায়, বর্তমান সংসদের ৮০ ভাগের বেশি সদস্য টিকফায় কী আছে, এই চুক্তি করলে কী লাভ তা বলতে পারবেন নাকিন্তু সংসদে আলোচনা করলে চুক্তিটি সম্পর্কে জনপ্রতিনিধিরা এ সম্পর্কে জানতেন, এর ভালো-মন্দ জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারতেনএতে শেষ পর্যন্ত সরকারেরই লাভ হতোকেননা, জনগণই সরকার কিংবা রাজনীতিবিদদের সবচেয়ে বড় সেফগার্ড

 

জনগণের কল্যাণে যেকোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করার ম্যান্ডেট সরকারের আছে এবং তা জনগণই দিয়েছেকিন্তু এর অর্থ তো এই নয় যে এসব চুক্তিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করা যাবে নাটিকফায় কী আছে, কেনই বা এই চুক্তি রাষ্ট্রের জন্য জরুরি তা জনগণকে জানাতে সমস্যা কোথায়? গত ৪২ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ এই প্রশ্নের জবাব খুঁজলেও তা মেলেনি

 

আমেরিকা এত প্রভাবশালী রাষ্ট্র, এর পরও রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামাকে যেকোনো আইন, দ্বিপক্ষীয়-বহুপক্ষীয় চুক্তি, ফোরামের জন্য কংগ্রেস সিনেটের অনুমোদন নিতে হয়এর মাধ্যমে আমেরিকা সরকার জনগণের কাছে নিজেদের জবাবদিহি নিশ্চিত করেসাংবিধানিকভাবে দেশের মালিক জনগণদেশের কল্যাণের কথা তারা কোনো অংশেই সরকারের চেয়ে কম ভাবে নাঅথচ তাদের উপেক্ষা করে সরকার যখন কিছু করতে চায় বা করে তখন পুরো কাজটি নিয়েই সন্দেহের আঙুল তোলে নাগরিকতা সে যত ভালো প্রকল্প বা চুক্তিই হোক না কেন?

 

জনগণের গলার আওয়াজ হয়তো উঁচু নয়, বলার ধরন খুবই সাধারণ, কোনো কোনো তা ক্ষেত্রে হয়তো অতিমাত্রায় ক্ষীণ বা নিশ্চুপ, এর পরও জনগণের সন্দেহই বারবার সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছেঠিক তেমনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হঠাৎ টিকফা চুক্তি অনুমোদন এবং এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত সরকারকে সন্দেহের বাইরে রাখেনি মানুষজনগণের এই অবিশ্বাস এবং সন্দেহ একেবারেই নিজস্বতাদের অভাব-অভিযোগ বিদেশি কোনো রাষ্ট্র বা নেতার বিরুদ্ধে নয়, বরং নিজেদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি

 

আধুনিক এই বিশ্ব অনেক বেশি নিকটতম, পরস্পরের প্রতি নির্ভরশীলউট পাখির মতো বালুর মধ্যে মুখ গুঁজে থেকে আজকের দুনিয়ায় টিকে থাকা যায় নাফলে উন্নত-অনুন্নয়নশীল, বন্ধু-শত্র“-মিত্র দেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় কল্যাণে চুক্তি-সমঝোতা স্মারক সই হওয়াটাই স্বাভাবিকসারা বছর বিশ্বে এমন কয়েক হাজার চুক্তি হয়এক রাষ্ট্রের প্রতি অন্য রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়ন-পারস্পরিক সহযোগিতার যে বৈশ্বিক অঙ্গীকার তা এসব চুক্তির মাধ্যমেই প্রতিফলিত হয়তবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বা এর বাইরে থাকা নেতৃত্ব জনগণকে কোনো দিন আস্থায়ই নেয়নিফলে জনগণও এসব চুক্তিকে কোনো সময়ই খুব ভালোভাবে দেখেনিযদিও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দাবি, তারা যা করেন বা করছেন, তা জনগণের কল্যাণেইকিন্তু এই কল্যাণ শেষ পর্যন্ত কিছু মানুষের পকেটস্থ হয়েছে বলেই সাক্ষ্য দেয় ইতিহাস

 

গণমাধ্যমে প্রকাশিত টিকফার খসড়ার স্বীকৃতি ও অনুচ্ছেদগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে দেখা যাবে, সেখানে এমন কিছু নেই, যা বাংলাদেশকে উদ্বেগের মধ্যে ঠেলে দিতে পারেটিকফার স্বীকৃতি অংশে মেধাস্বত্ব বিষয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকেই অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছেএর পরও অনেকের আশঙ্কা আছে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মেধাস্বত্ব আইনের (ট্রেড রিলেটেড আসপেক্টস অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস-ট্রিপস) বাংলাদেশ ওষুধ খাতসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় পেয়ে আসছে, টিকফার কারণে তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেএই আশঙ্কা যে একেবারেই অমূলক তা নয়প্রভাব টিকিয়ে রাখতে বিশ্বব্যাপী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য-কৌশল ও তা প্রয়োগ, চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা, নিজেদের স্বার্থ আদায়ে বিভিন্ন দিক থেকে চাপ দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলেই শঙ্কার জায়গাটি পরিষ্কার হয়এটা জানার পরও তাদের সঙ্গে চুক্তিতে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে, এই আশঙ্কা দূর করার দায়িত্ব মার্কিনদের নয়, বাংলাদেশের

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের মতো বড় অর্থনীতি ও পরাশক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের জন্য দর-কষাকষি করা খুব কঠিনকেননা এসব দেশ বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর সঙ্গে রাজনীতিকে টেনে আনেনিজেদের প্রয়োজনে বা স্বার্থ আদায়ে বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেউদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, টিকফা চুক্তি হয়েছেএখন বাংলাদেশে তাদের কোনো স্বার্থ আদায়ের ব্যাপার থাকলে তারা অন্য কোনোভাবে তা আদায় করবে, সেটা টিকফার মূলনীতি ভেঙে নয়যেমন জিএসপি-সুবিধা বহাল রাখার জন্য তারা শ্রমিকের কর্মপরিবেশ ও জীবনমান উন্নয়নের শর্ত দিয়েছেবাংলাদেশের মতো অর্থনীতির পক্ষে এ অবস্থা থেকে রাতারাতি বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়, এটা জানার পরও তাদের দেওয়া নামমাত্র জিএসপি স্থগিত করেছেএখন এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে শ্রম মানের উন্নতির সঙ্গে অনেক নতুন নতুন দৃশ্যমান বা অদৃশ্যমান শর্ত আসতে পারেঅর্থনৈতিক এই বিষয়ের সঙ্গে যোগ হতে পারে রাজনৈতিক কোনো ইস্যুএ সবই ধারণা মাত্র, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এমন বহু নজির পৃথিবীতে আছে

 

তাদের এই আচরণ সব সময় যে খারাপ এমন নয়নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব টিকিয়ে রাখতে দেশটি একেক দেশের সঙ্গে আলাদা আলাদা কৌশল ব্যবহার করেবাংলাদেশ আগামীকাল আমেরিকার অবস্থানে গেলে তারা একই পথ অনুসরণ করবেসেটাই স্বাভাবিকএ ক্ষেত্রে নিজেদের অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ে পেশাদারি হওয়ার পরামর্শ সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমানেরটিকফাকে ইতিবাচক কাঠামোগত চুক্তি হিসেবে দেখছেন এই অর্থনীতিবিদতিনি বলেন, টিকফা একটি চুক্তির চেয়ে বেশি কিছুএটি একটি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিবিষয়ক কাঠামোগত চুক্তিএ নিয়ে নাটকীয় হতাশার কোনো কারণ নেইএত প্রতিক্রিয়া দেখানো কিংবা আমেরিকা সুপার পাওয়ার বলে তারা যা ইচ্ছে তা-ই করে ফেলবে, এমন গ্রাম্য চিন্তার বা যুক্তিরও কোনো কারণ নেইএমন সেকেলে চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে

 

তিনি যোগ করেন, পৃথিবী অনেক এগিয়েছেবিদ্যা-বুদ্ধি, সমঝোতা দক্ষতা, বিশ্ব শাসন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখার মতো সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে মার্কিনরা অর্ধশতাব্দীর বেশি বিশ্বনেতা হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেশুধু গায়ের জোরে এটা সম্ভব নয়টিকফায় যে বিষয়গুলো এসেছে এগুলো অধিকতর পেশাদারির ভিত্তিতে বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবেএ জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পেশাদারি বাড়াতে হবেযদিও এখানে পেশাদারি সব প্রতিষ্ঠানের মান এখন নিম্নমুখীটিকফায় যে পর্যায়ে আলোচনা-চিন্তার কথা বলা হয়েছে বাংলাদেশকে ওই পর্যায়ে যেতে হবেইউএসটিআরের সঙ্গে পেশাদারি ও দক্ষতা দেখাতে না পারলে সেটা আমাদের ব্যর্থতাশুধু আমেরিকাকে সাম্রাজ্যবাদ বলে গালি দিয়ে লাভ কীআমাদের তো কেউ তাদের মতো পর্যায়ে যেতে মানা করেনি, বাধাও দেয়নিফলে যে দেশের সঙ্গেই দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় চুক্তি হোক না কেন, লাভবান হতে হলে রাষ্ট্র-সমাজ সব পর্যায়ে পেশাদারি আনতে হবেগেঁয়ো রাজনীতির গোয়ার্তুমি না দেখিয়ে যেকোনো বিষয়কে নানা আঙ্গিকে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা অর্জন করতে হবেসেটা না পারলে আমেরিকার কোনো ক্ষতি নেইকারও কোনো ক্ষতি নেইযা ক্ষতি তার পুরোটাই বাংলাদেশের

 

তবে অন্যদের মতো সাবেক এই উপদেষ্টাও জানালেন, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মেধাস্বত্ব বিষয়ে যে ছাড় পায় সেটা যেন দ্বিপক্ষীয় চুক্তির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করাই হবে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

 

অতীতে যত চুক্তি বাংলাদেশ করেছে তার তুলনায় টিকফা অনেক লিবারেল বা উদার, এই সত্যটুকু মানতেই হবেচুক্তি অনুযায়ী পণ্যের ও সেবার বাজার বাড়ানো এবং পণ্যের বহুমুখীকরণ করতে পারলে তাতে আমেরিকার চেয়ে বাংলাদেশেরই লাভ বেশিবাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করা, নিয়মিত উভয় দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের দিকে নজর রাখা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা আছে তা দূর করবে টিকফার আওতায় গঠিত ফোরামকাজটি ঠিকঠাকমতো করতে পারলে আমেরিকার চেয়ে বাংলাদেশেরই লাভ বেশিমধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হতে হলে এসব দিকে নজর দিতে হবেতবে লক্ষণীয় যে, ‘প্রতিবন্ধকতা-এই শব্দটির অর্থ এত ব্যাপক যে, প্রতিবন্ধকতা বলতে উভয় পক্ষ কী বোঝে তা উল্লেখ থাকলেই ভালোএ বিষয়ে সাধারণ সমঝোতা না হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ লিখিতভাবে জানানোর সুযোগ থাকবে এবং উভয় দেশের জাতীয় আইনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না এই চুক্তিআইনে বিষয়টি অনুচ্ছেদ আকারে উল্লেখ থাকলেও এর সুরক্ষা কীভাবে হবে সে বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবেবিশেষ করে, বাংলাদেশের মতো দুর্বল রাষ্ট্রের জন্য এই সুরক্ষা খুব জরুরিবছরে একবার নোটিশ দিয়ে বৈঠক করার বাধ্যবাধকতার সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে দ্বিপক্ষীয় অনেক সমস্যা আলোচনার ভিত্তিতে মীমাংসার সুযোগ তৈরি হবেঅন্যদিকে স্বীকৃতি অংশে জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন মেনে চলার যে কথা বলা হয়েছে তা বাংলাদেশের জন্য অর্থনীতি-রাজনীতি-সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অসম্ভব জরুরি

 

তবে স্বীকৃতি অংশে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মূলনীতি মেনে উভয় পক্ষ শ্রম অধিকার বাস্তবায়ন এবং পরিবেশের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ করতে পরিবেশ আইন অনুসরণ, অশুল্ক বাধা অপসারণের মতো যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা বা প্রস্তুতি না থাকলে টিকফা বাংলাদেশের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারেবাংলাদেশের মতো সম্ভাবনাময় ও বিকাশমান একটি অর্থনীতিতে শ্রম অধিকার বাস্তবায়ন, পরিবেশ আইন অনুসরণ কঠিনঅশুল্ক বাধা উন্নত দেশগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক হলেও স্বল্পোন্নত দেশের জন্য তা হতে পারে নাবরং অশুল্ক বাধা নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবহার করা সুযোগ পাওয়াটা স্বল্পোন্নত দেশের জন্য অধিকার হওয়া উচিতবাংলাদেশ অর্থনীতি হিসেবে ছোট হলেও বাজার হিসেবে বিশালএত বড় ভোক্তাশ্রেণী এবং বাজারের দিকে দুনিয়ার সব অর্থনীতির বিশেষ দৃষ্টি থাকা স্বাভাবিক

 

বাজার বড় হলেও বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর দেশআমদানিনির্ভরতা কাটাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের সুরক্ষা প্রয়োজনযদিও বিশ্ব প্রতিদিনই উন্মুক্ত হচ্ছেএর পরও দুনিয়ার সব দেশ তাদের নিজস্ব পণ্যের সুরক্ষা দেওয়ায় জন্য শুল্ক এবং অশুল্ক বাধা আরোপ করেআমেরিকা উদার অর্থনৈতিক দেশ হলেও তারা নিজেদের বাজারের সুরক্ষায় কত রকম নিয়ম-কানুন বানিয়ে রেখেছে তা সত্যিই গবেষণার বিষয়ফলে অশুল্ক বাধা অপসারণ, শ্রম অধিকার বাস্তবায়ন, পরিবেশের সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো নিয়ে ভবিষ্যতে আমেরিকানদের মোকাবিলায় স্থানীয় সব অংশীদারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন

 

গত বছর ভারত-বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শেষে একজন ভারতীয় কূটনীতিক চা পান করতে করতে কথা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘উভয় দেশের মধ্যে কোনো চুক্তি হওয়ার পর তা থেকে যদি ভারত একা লাভবান হয় তবে তা ভারতের দোষ নয় বরং বাংলাদেশের ব্যর্থতাএ ক্ষেত্রে শুধু শুধু ভারতবিরোধিতা না করে তোমাদের (বাংলাদেশের) উচিত নিজেদের দুর্বলতাগুলো খুঁজে দেখা এবং তা প্রতিকারে ব্যবস্থা নেওয়াএটা শুধু ভারত নয়, যেকোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পর তা থেকে লাভবান হওয়ার জন্য অন্য পক্ষের মুখ চেয়ে বসে না থেকে পেশাদারির সঙ্গে প্রতিযোগীদের মোকাবিলা করতে হবেসেই সক্ষমতা অর্জন না করলে বিরোধিতার বৃত্তেই আটকে থাকবে বাংলাদেশ, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী এগোতে পারবে না কোনো দিন


আপনাদের মতামত দিন:


সকল খবর
চলমান প্রচ্ছদ