আগামী নির্বাচন হবে রিমোট কন্ট্রোলে | সময় বিচিত্রা
আগামী নির্বাচন হবে রিমোট কন্ট্রোলে
এবিএম মূসা

‘আগামী নির্বাচন হবে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে’। প্রধানমন্ত্রী যদি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করতে পারেন, তাহলে আগামী জাতীয় নির্বাচনও রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে করা যাবে। এমন কথা বলেছেন বরেণ্য সাংবাদিক এবিএম মূসা। গত ৬ অক্টোবর নিজের দেয়া একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রবীন এই সাংবাদিক বলেন, ‘আমাকে বিভিন্ন জন টেলিফোনে জিজ্ঞাসা করেন, আগামী নির্বাচন কীভাবে হবে। এ কথার জবাবে কোনো উত্তর না পেয়ে আমি তাদের বলে দেই, আগামী নির্বাচন হবে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে প্রবীণ এই সাংবাদিককে সংবর্ধনার আয়োজন করেন “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন”।

 

অনুষ্ঠানে এবিএম মূসা বলেন, কয়েকটা টেলিভিশনের টক শোতে যাওয়া নিয়ে আমাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। তার পরও টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ আমাকে আমন্ত্রণ করেছে। তবে তারা আমাকে অনুরোধ করে বলেছে, আমি যাতে সংযত হয়ে কথাবার্তা বলি। আমি আমার মতোই কথা বলে গেছি। বাসায় ফেরার পর তারা জানিয়েছে, তাদের যায় যায় অবস্থা। তখন আমি তাদের বলি, সংযত হয়ে কথা বলাতেই এ অবস্থা আর অসংযত কথা বললে কী হতো, চিন্তা করে দেখো। তিনি বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকতায় প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। কিন্তু পেশাগত দিক থেকে এটা অনেক পিছিয়ে পড়েছে। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে সাংবাদিকতার মান আজ কমে গেছে। এটা অনেকটা হ-য-ব-র-ল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমি চাই সংবাদ। মানুষের এখন সময় কম। তাই তার দরকার সংবাদটা। তার সময় থাকলে সে ব্যাখ্যাসহকারে পড়বে। এখন ‘কাট-ছাঁট’ সাংবাদিকতা শুরু হয়েছে। তার পরও আমি সাংবাদিকতা নিয়ে আশাবাদী।

 

এবিএম মূসা সংবর্ধনা গ্রহণ করে বলেন, আমি বিস্মিত, আমি বিমোহিত, আমি আনন্দিত; আবার আমি বিব্রতবোধও করছি। কেননা প্রথম, দ্বিতীয় প্রজন্ম চলে গেছে। তৃতীয় প্রজন্ম এসে আমাকে সংবর্ধনা দিচ্ছে। আর চতুর্থ প্রজন্ম এসে উঁকি দিচ্ছে। এ সময় তিনি অনেক স্মৃতিচারণামূলক কথা বলেন। মনের দিক থেকে এখনো নিজেকে তরুণ মনে করেন বলে জানান গুনি এই সাংবাদিক । এ জন্য সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে তিনি যাননি, যেখানে প্রবীণ সাংবাদিকদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সাংবাদিকতার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং যাপিত জীবনের নানা বিষয় নিয়ে নিজের আত্মজীবনী লিখছেন বলেও জানান তিনি। বক্তব্যের শেষে তিনি রবীন্দ্রনাথের গান থেকে উচ্চারণ করে বলেন, ‘তোমাদের এই হাসি খেলার মাঝে আমি যে গান গেয়েছিলাম সেই কথাটি মনে রেখো।’

 

 


আপনাদের মতামত দিন:


সকল খবর
চলমান প্রচ্ছদ